শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে পানির রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হল বাংলাদেশকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে নরসিংদী পৌরসভা পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক  মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে মুগ্ধ রিজিয়ন কমান্ডার ওয়াদুল মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নরসিংদীর যুবলীগ নেতা আবু তালেব  বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আগামী জুনের মধ্যে দেওয়া হবে হেলথ কার্ড : স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষকে  বরণ নরসিংদী বয়েজ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ 
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

১৮টি  উপকেন্দ্র বন্ধ; বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক

Reporter Name / ১৯৭ Time View
Update : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃষ্টিপাতের পরিমান কমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এখনও দেশের ছয় নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত আরইবি’র ১১টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং পিডিবির ৫টি বিদ্যুৎ অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই বিতরণ কোম্পানির বন্ধ আছে মোট ১৮টি  উপকেন্দ্র, যা শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ছিল ২২টি। শনিবারের (২৪ আগস্ট) হিসাবে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে আরইবির প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার ২৬৬ জন গ্রাহক, যা শুক্রবার ছিল প্রায় ১১ লাখ।

এদিকে  পিডিবির অধীনে প্রায় ৯৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিল, শনিবার তা ৪৩ হাজারে নেমে এসছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ৯ লাখ ৬৭ হাজার ২৬৬ গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। শুক্রবার প্রায় ১২ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎপোল, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (আরইবি) জানায়, বন্যায় তাদের অধীন ১১টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের হিসাবে জানা যায়, দেশের ৯ লাখ ২৪ হাজার ৯৬ জন গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর মধ্যে চাঁদপুরে ১-এ শুক্রবার বিদ্যুৎহীন ছিল ৫ হাজার ৩৫০ জন, শনিবার তা কমে ৫০০ জন, নোয়াখালীতে শুক্রবার বিদ্যুৎহীন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ জন, শনিবার ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০, ফেনীতে ছিল ৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬ জন, শনিবার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬, লক্ষ্মীপুরে  ছিল ২০ হাজার জন, শনিবার তা বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার, কুমিল্লা ২-এ শুক্রবার বিদ্যুৎহীন ছিল ৭৫ হাজার জন, শনিবার তা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮০ জন,  কুমিল্লা ৪-এ বিদ্যুৎহীন ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার জন, শনিবার ২০ হাজার, চট্টগ্রাম ১-এ বিদ্যুৎহীন ছিল ২ হাজার জন, শনিবার সেখানে সবাই বিদ্যুৎ পেয়েছে। এদিকে নতুন করে চট্টগ্রাম ২ এ ৮ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন, চট্টগ্রাম ৩-এ শুক্রবার বিদ্যুৎহীন ছিল ৫০ হাজার জন, এখন তা বেড়ে ৭০ হাজার,  কক্সবাজারে বিদ্যুৎহীন ছিল ৫০০ জন, শনিবার তা কমে ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎহীন ছিল ৪২ হাজার জন,  শনিবার তা কমে ৫ হাজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎহীন ছিল ১৫ হাজার। শনিবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে এ জেলায় সাড়ে ৩ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে।

এদিকে মোট ১৭৪টি উপকেন্দ্রের মধ্যে শানবার বন্ধ রয়েছে ১৭টি, শুক্রবার বন্ধ ছিল ২১টি। ৯০৫টি ১১ কেভি ফিডারের মধ্যে শানিবার বন্ধ আছে ১৬০টি। শুক্রবারের হিসাবে আরইবি জানিয়েছিল, প্রাথমিকভাবে তাদের মোট ২৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকার ৭১৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, ২৪৬ লাখ টাকার ৩২৮টি ট্রান্সফরমার, ১৬৯ দশমিক ১১ লাখ টাকার ২ হাজার ২২৫টি স্প্যান ছিঁড়েছে, ২ দশমিক ১৯ লাখ টাকার ৩১৯টি ইন্সুলেটর, ৯০ লাখ টাকার ৭ হাজার ৪৯৯টি বিদ্যুতের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে ফেনীর হিসাব নেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ সেখানকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস এখনও বন্ধ আছে৷

এদিকে পিডিবি জানায়, বন্যায় তাদের অধীনে সুলতানপুর ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রটি বন্ধ আছে। ১৩টি ১১ কেভি ফিডার বন্ধ আছে। চৌদ্দগ্রাম ছাড়া কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চৌমুহনীর বিদ্যুৎ অফিসের অধীনের ৪৩ হাজার গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে ৯টি ট্রান্সফরমার এবং ৪৪টি মিটার পোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি লাইন, ১৮ কিলোমিটার ১১/০.৪ কেভি লাইন, ১৭ কিলোমিটার ০.৪ কেভি লাইনের ক্ষতি হয়েছে।  সব মিলিয়ে পিডিবি জানায়,  প্রাথমিক হিসাবে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা৷

পিডিবি জানায়, সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করতে জোনাল কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গ্রাহককে জরুরি সেবা দিতে হট লাইন চালু করা হয়েছে, দফতরগুলোর পরিস্থিতি মনিটরিং করতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। প্রতিটি দফতরে বন্যা প্লাবিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মনিটরিং কমিটি গঠন, প্রতিটি দফতরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্পেশাল কারিগরি টিম গঠন, বন্যার পানি যথাযথ পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে প্রতিটি দফতরে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ মালামাল (তার, পোল, ট্রান্সফরমার,  ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক মালামাল) জমা করা হয়েছে।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!