শিরোনাম :
তীব্র লোডশেডিংয়ের মাঝেই শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা; অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ শিগগিরই: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব নরসিংদী-গাজীপুর সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সেলিনা ৩৬টি নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা রায়পুরায় দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে গণধোলাইয়ের দিল জনতা সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ২ ক্রুসহ ৮ আরোহী নিহত নারায়ণগঞ্জে পানির রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হল বাংলাদেশকে
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

শুষ্ক মৌসুমে বাঘাইছড়িতে বাড়ে অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার স্টেশনের দাবি

Reporter Name / ১৫৯ Time View
Update : রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

রাঙামাটি প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ঘটে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এতে করে সহায় সম্বল হারিয়ে অনেকে হয়ে পড়েন নিঃস্ব। আবার ব্যবসায়ীরাও সম্মুখীন হোন লাখ লাখ টাকা ক্ষতির। রাঙামাটি সদর থেকে এই উপজেলা অনেকটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় আগুন নিভাতে নির্ভর করতে হয় খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর। যার ফলে সময়মতো সাহায্য পৌঁছাতে পারে না পারায় বেড়ে যায় ক্ষতির মাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে এই উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা। আর এর জন্য আংশিক জমি ক্রয় হলেও এখনও প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় দ্রুত এই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি উপজেলার একটি বৃহৎ মার্কেটে আগুন লেগে প্রায় ২০০টি দোকান পুড়ে যায়। ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি কাচালং বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০টি দোকান এবং ২০২২ সালের ২২ জুলাই দুরছড়ি বাজারে প্রায় ৭০টি দোকান পুড়ে যায়। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প (এসএস সিএইচটি) কার্যালয়ে আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির ১ হাজার ৯৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত বাঘাইছড়ি উপজেলা। বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এখনও এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রাঙামাটি সদর থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব ১১২ কিলোমিটার। বাঘাইছড়ি সদর থেকে খাগড়াছড়ি ফায়ার স্টেশন ৫১ কিলোমিটার দূরে। যার ফলে আগুন লাগলে বেশ সময় লাগে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে আসতে। যা ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে তুলে।

বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি এই প্রকল্প।

২০১৮ সালেই ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের কথা ছিলো, কেনা হয় জমিও।

স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে সরকারের পক্ষ থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় সরকারের ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর-স্থানে ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. আতাউল হক জায়গা নির্বাচন করার জন্য উপজেলা পরিদর্শন করেন এবং পৌরসদরের ৪ নম্বের ওয়ার্ডের রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার শাহ আলম কোম্পানির জায়গাটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন।

প্রকল্পের সূত্র মতে, ফায়ার স্টেশনটির ক্যাটাগরি হওয়ার কথা ছিলো ‘বি’ এবং এটি ‘স্থল কাম নদী পাড় স্টেশন’ নামে পরিচিত হওয়ার কথা ছিলো। স্টেশনে স্টেশন অফিসার ১ জন, সাব অফিসার ১ জন, লিডার ২ জন, ড্রাইভার ৩ জন, ইঞ্জিন ড্রাইভার ১ জন, মাস্টার ড্রাইভার ২ জন, বাবুর্চি ১ জন এবং ফায়ারম্যান ১৮ জন থাকবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া স্টেশনটির জন্য ২টি যানবাহন-যার মধ্যে একটি বড় গাড়ি (৪৩০০ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা) এবং একটি টানা গাড়ি থাকার কথা তখন জানানো হয়। এছাড়া, ২টি পাম্প ও ১টি কান্ট্রি বোটও থাকার কথাও উল্লেখ ছিলো প্রকল্পে।

তবে, দীর্ঘদিন পরেও কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, প্রশাসনকে বারবার জানানো হয়েছে, তবে কোনো লাভ হয়নি। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও ফায়ার সার্ভিসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছি। বাঘাইছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনের উচিত দেরি না করে দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. দিদারুল আলম জানান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ৩৩ শতাংশ জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। তবে প্রকল্প পরিবর্তন হওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় প্রকল্প আসলে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
শিপ্র/আবছি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!