আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার প্রাণ গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে মেলাউইয়ের একটি বাগান এলাকা থেকে উড্ডয়নের পাঁচ মিনিট পর হেলিকপ্টারটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেটি বিধ্বস্ত হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় উদ্ধারকারীরা।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। হেলিকপ্টারটিতে থাকা ছয় যাত্রী ও দুজন ক্রু সদস্য সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে যেতে বেগ পেতে হয় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের। বাগান এলাকাটি ইন্দোনেশিয়ার একটি পাম তেল কোম্পানির মালিকানাধীন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরোহীদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিকও ছিলেন। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ‘এয়ারবাস এইচ১৩০’ মডেলের একটি এয়ারক্রাফট, যা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থার মালিকানাধীন।
দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের মেলাউই শাখার উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সায়াফি জানান, বৃহস্পতিবার মেলাউই জেলার একটি পাম বাগান থেকে উড্ডয়নের মাত্র ৫ মিনিট পর হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলটি পার্শ্ববর্তী সেকাদাও জেলার অন্তর্গত একটি খাড়া পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গলবেষ্টিত এলাকা।
ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে উদ্ধারকারী দলের সেখানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হেলিকপ্টারটির লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে লেজের অংশটি মূল কাঠামো থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
শিপ্র/শাহোরা/