শিরোনাম :
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে নরসিংদী পৌরসভা পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক  মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে মুগ্ধ রিজিয়ন কমান্ডার ওয়াদুল মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নরসিংদীর যুবলীগ নেতা আবু তালেব  বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আগামী জুনের মধ্যে দেওয়া হবে হেলথ কার্ড : স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষকে  বরণ নরসিংদী বয়েজ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ  ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘নরসিংদী ম্যারাথন ২০২৬’; শীঘ্র রেজিস্ট্রেশন শুরু বাংলা নববর্ষে শুভেচ্ছা জানান বাসপা’র নরসিংদীর সা. সম্পাদক খালেদ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

রাহা মনির মৃত্যু: ক্ষতিপূরণের টাকার হদিস নেই পিকনিকে মেতেছে সাস-স্বাচিপ সদস্যরা

Reporter Name / ৩১০ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে টনসিল অপারেশনের সময় ভূল চিকিৎসার অভিযোগে ৬ বছরের শিশু রাহা মনির মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া শুরুর আগেই প্রভাবশালী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর সহসভাপতি ও সোসাইটি অব এনেসথেস্টিক এন্ড সার্জন, (সাস) এর সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ আল মাসুদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত চিকিৎসকরা মুক্তি পান।

একইসাথে ক্ষতিপূরণের নামে আদায়কৃত অর্থের যত সামান্য অংশ দেওয়া হয় ভুক্তভোগী পরিবারকে। বাকী টাকার নেই কোন হদিস।

সূত্র জানায়, বাকি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় মধ্যস্বত্ব ভোগীরা। এছাড়াও এ টাকার একটা বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে এ চিকিৎসক সংগঠন সাসের এই পিকনিক আয়োজনে।

গত ২৮ আগস্ট রাতে পৌর শহরের হেমেন্দ্র সাহার মোড় এলাকার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের সময় মারা যায় রাহা মনি। সে রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙা গ্রামের নিজামুল হক ও তানিয়া আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান।

ঘটনার পর রাতেই নরসিংদী সদর হাসপাতালের এনহেষ্থিশিয়া চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত সাহা ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. তন্ময় করকে পুলিশ আটক করে। তবে পরে ভোররাত ৬ টার দিকে ড্যাব ও সাসের সদস্যরা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলোচিত এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের নামে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার হাতে পেয়েছে এটাকা মাত্র সামান্য অংশ। এখন প্রশ্ন থাকে! তাহলে বাকী টাকা গেল কোথায়?

এদিকে মুক্তি পাওয়ার পর শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই দুই ঘাতক চিকিৎসকসহ জেলা অন্যান্য চিকিৎসকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের উলুখোলা এলাকায় নরসিংদী জেলা ড্যাবের সহসভাপতি ও সাসএর সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে কালব রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে আনন্দ-আয়োজন ও পিকনিকে অংশ নিয়েছেন সাস ও স্বাচিপ। সাসের এই পিকনিক হয়ে উঠেছে সাস ও স্বাচিপের মিলন মেলা। এসময় ড্যাবের কতিপয় নেতৃবৃন্দ মিলন মেলায় উপস্থিত ছিলেন। অনেকে মনে করছেন পতিত স্বৈরাচারের দোসর স্বাচিপের সদস্য পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত করতেই কালব রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে আজকের এই আয়োজন। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষসহ নিহত শিশুর পরিবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন সার্সের সাধারণ সম্পাদক ডা. নাহিদুল ইসলাম।, ড্যাবের সভাপতি হাসান আল জামী, দপ্তর সম্পাদক ডা. শাহারিয়ার খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ডা. সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক ডা. মো. আসাদুজ্জামান সুমন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডা. শারমিন জাহান নূপুর। নরসিংদী জেলার স্বাচিপ এর যুগ্ম আহবায়ক ডা. সুখরজন, সদস্য ডা. সুবিনয় কৃষ্ণ পাল, ডা. এস এম ইতেশামুল হক, ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. মোঃ নুরুজ্জামান, ডা. উৎপল কুমার সাহা, ডা. এসএম কামরুজ্জামান, ডা. কান্তি মন্ডল, ডা. মাহমুদুল কবীর বাসার, ডা. চন্দন সেন, ডা. আমিনুল ইসলাম জুয়েল, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. মাইনুল হক চিশতী, ডা. মোঃ নাজিম উদ্দীন, ডা. সীমান্ত বণিক, ডা. আশিক রহমান রনী, ডা. আরিফুল শুভ, ডা. মাশকায়াত নিলয় ডা. জাকির হোসেন সজীব, ডা. রোজী সরকার, ডা. মো. নাসিম আল ইসলাম ও ডা. কাজী নাজমা বেগমসহ আরোও অনেকে।

পিকনিকের জন্য প্রত্যেক চিকিৎসকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মাথাপিছু আড়াই হাজার টাকা করে। ওই রিসোর্টে জনপ্রতি খাবার খরচ ৩ হাজার টাকার অধিক কিন্তু মাথাপিছু চাঁদা নেওয়া হয় আড়াই হাজার টাকা তাছাড়া শুধু খাবার দিয়েই সকল খরচ শেষ হয় না। গাড়ী ভাড়াসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য খরচ রয়েছে। তাও নেহায়েত কম নয়। আর এই সকল খরচের জোগান দেওয়া আর্থিক ক্ষতিপূরণের টাকা থেকেই।

নিহত শিশু রাহা মনির নিকট আত্মীয় ফজলুল হক বলেন, শিশু রাহা মারা গেছে আজকে ৮ দিন। বলতে গেলে এখনো তার রক্তের দাগও শুকায়নি। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের এই আনন্দ আয়োজনকে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

শিশুটির বাবা নিজামুল হক বলেন, “আমরা আমাদের একমাত্র সন্তানকে হারালাম, তারা ক্ষতিপূরণের নামে কিছু টাকা, কিন্তু আমাদের হাতে দিয়েছে আমি শুধু এতোটুকু বলতে পারব। তবে সেখানে মোট কত টাকা ছিল তা আমি বলতে পারব না। সেটা আমার বড় ভাই জানে এখন আবার দেখি তারা আনন্দ করছে।

লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, অপারেশনের পর শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকায় নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয়।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!