রায়পুরা প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরার আঞ্চলিক সড়কের একটি স্থানের প্রায় পঞ্চাশ মিটার পর্যন্ত পিচ উঠে খাদাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার রায়পুরা-সাপমারা আঞ্চলিক সড়কের সৃষ্ট খাদাখন্দে পানি জমে বেহাল দশা।দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীদের। খানাখন্দে সাড়া বছর পানি জমে থাকায় প্রায়শ: ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের।
রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলা সদরের সাথে পূর্বাঞ্চলের মির্জাপুর, মুছাপুর, মহেষপুর, চাঁনপুর, রায়পুরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম রায়পুরা-সাপমারা নয় কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক এই সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, রায়পুরা ইউনিয়নের রাজপ্রাসাদ এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার এলাকাজুড়ে সড়কের বেহাল দশা। রাস্তার আশপাশের বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশনের কোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ওইসব পানি সারাবছর সড়কে এসে পড়ায় বিভিন্ন যানবাহনের চাকার ভারিতে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় অসংখ্য খাদাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলাচলকারীদের নানা রকম দূর্ঘটনাসহ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ওইখানটায় মানব সৃষ্টির সমস্যা, বাসাবাড়ির পানি সড়কে আসে। স্থানীয়রা সচেতন হয়ে সড়কে আসা পানির আউটলেট বের করে দিলেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই রাস্তাটি দ্রুত ম্যান্টেনেসে করে দেয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা চালক পথচারীরা জানান, সড়কটিতে পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার জমাট বাঁধা পানি জমে থাকার কারণেই এই হাল। সড়কটি দিয়ে পূর্বাঞ্চলের মির্জাপুর, মুছাপুর, মহেষপুর, চাঁনপুর, রায়পুরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জেলা উপজেলা সদরে আসতে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। সড়কের এই কতটুকু অংশ চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তাছড়া প্রায়শ: যানবাহন চলাচলে ছোট বড় দূর্ঘটনাতো ঘটছেই। সড়কের পাশ দিয়ে পথচারীরা হাঁটবেন, তারও কোনো উপায় নেই। যানবাহন ধীর গতিতে চলাচলের সময় পথচারীদের গাঁয়ে কর্দমাক্ত পানি ছিটকে পড়ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে দাবি জানান তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সবসময় সড়কের গর্তে পানি জমে থাকে। সড়কটির এমনই বেহাল দশা যে হেঁটে চলাই কষ্টকর। অনেক সময় স্কুলে যাতায়াতের সময় যানবাহনের চাকায় গর্তে জমে থাকা কাদাপানি ছিটকে পোশাক নষ্ট হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা যাত্রী মজনু মিয়া বলেন, মুছাপুর ও মহেষপুর, রায়পুরা ইউনিয়নসহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষ সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। প্রায়ই গাড়ি উল্টে ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। দীর্ঘদিন যাবৎ এই অবস্থা এ যেন দেখেও দেখার কেউ নেই।
অটোরিক্সা চালক ফজলুর রহমান বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েক আসা-যাওয়া করি। সড়কে সৃষ্টি হওয়া ছোট বড় গর্তে পানি জমে থাকে। বিকল্প সড়ক না থাকায় এই সড়কেই ঝুকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে গাড়ি। এতে গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। কাঁদা পানি যাত্রীদের গায়ে ছিটকে পড়ে। দীর্ঘদিন সড়কটি এ অবস্থা থাকলেও কারো যেনো মাথা ব্যাথা নেই। এই রাস্তা দেইখ্যা মনে হয় আমগো এই দিকে মনে হয় কোন মেম্বার চেয়ারম্যান নাই।
স্থানীয় এক দোকানী বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়। পরে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচলের অসুবিধা হয়। বৃষ্টি পানি রাস্তায় জমে থাকার কারণে কাস্টমার দোকানে আসে না। দোকানে বেচা বিক্রি খুব মন্দা।
এব্যাপারে রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর সাথে কথা বলতে একাধিক বার তার মোবাইলে চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রায়পুরা উপজেলা প্রকৌশলী মো মাজেদুল হক সজীব এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই চলাচল করতে হয় বলে জানিয়ে দায় এলাকাবাসীর উপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন, মূলত সমস্যাটা মানব সৃষ্ট। স্থানীয় বিভিন্ন বাড়ি-ঘরের পানি সরাসরি সড়কে এসে পড়ে। স্থানীয়রা এ নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। তাদেরকে বলে দিয়েছি। বিভিন্ন বাড়ি ঘরের পানি যাতে সড়কে না আসে। আউটলেট বের করে যাতে সে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে। তা না হলে বার বার এই সমস্যা হবে। সরকারি অর্থের অপচয় হবে। স্থানীয়রা সচেতন হলেই তা সম্ভব। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই রাস্তাটি দ্রুত ম্যান্টেনেসে করে দেয়া হবে।
তবে সচেতন মহল বলছেন, উপজেলা প্রকৌশলীর আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। সড়কটি যেহেতু এলজিইডি বিভাগের তাই তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে সড়কের পাশে একটি ড্রেন নির্মানের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি প্রেরণ করলে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন সেই সাধারণ এলাকাবাসীর উপর। যা তার আন্তরিকতার অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।
শিপ্র/শাহোরা/হার/