রাঙামাটি প্রতিনিধি
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মারিশ্যা পোস্ট অফিসটি একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক সময় স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। চিঠিপত্র আদান প্রদানে পোস্ট অফিসটি অত্র এলাকাসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ মারিশ্যা পোস্ট অফিসের উপর নির্ভরশীল ছিল। কেবল চিঠিপত্র আদান-প্রদানই নয় স্থানীয়রা মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পয়সাও লেনদেন করতো। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সেবা দিতে গিয়ে আজ নিজেই সেবা প্রার্থী হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিনের অযত্ন অবহেলায়, সংস্কারের অভাবে বর্তমানে অত্র পোস্ট অফিসটির বর্তমানে বেহাল দশা। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এটি। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঘুটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মারিশ্যা পোস্ট অফিসের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত নাজুক। জানালাগুলো ভেঙে গেছে, দরজাগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে, কারণ বৃষ্টি হলে অফিসের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এমনকি পোস্ট অফিসের ছাদ থেকেও বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ে, যার ফলে নথি এবং অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একটি সরকারি অফিসের এমন বেহাল দশা দেখে স্থানীয় জনগণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এটি শুধু পোস্ট অফিস নয়, বরং এলাকাবাসীর জন্য একটি প্রয়োজনীয় সেবাকেন্দ্র, যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আজ কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মারিশ্যা পোস্ট অফিসে লোকবল বলতে মাত্র ২ জন কর্মচারীকে কাজ করতে দেখা যায়, যদিও একটি পোস্ট অফিসের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য আরও জনবল থাকা উচিত। সীমিত সংখ্যক কর্মচারী হওয়ার কারণে পরিষেবার মানও অনেকক্ষেত্রে ব্যাহত হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা, যা কর্মচারীদের কাজ করার পরিবেশকেও কঠিন করে তুলেছে। ভাঙা দরজা-জানালার কারণে পোস্ট অফিসটি পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। এটি এখন যে কোনো চুরি বা নাশকতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র, ডাক, এবং পোস্টাল সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার বা চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই পরিস্থিতি পোস্ট অফিসের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্ষার সময় পোস্ট অফিসে পানি ঢুকে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মেঝেতে পানি জমে থাকায় কর্মচারীদের কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের প্রয়োজনীয় ডাকসেবা থেকে বঞ্চিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমান জানান, “বছরের পর বছর আমরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। বর্ষার সময় তো পোস্ট অফিসে যাওয়াই সম্ভব হয় না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মারিশ্যা পোস্ট অফিসের এই করুণ অবস্থার দ্রুত সমাধান করা উচিত। এটি শুধুমাত্র একটি স্থাপনার সমস্যা নয়, এটি সরাসরি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং সরকারি সেবার ওপর প্রভাব ফেলে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ডাক বিভাগের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।
একটি কার্যকরী এবং আধুনিক পোস্ট অফিস নির্মাণের মাধ্যমে মারিশ্যার জনগণকে আবারও উন্নত সেবা প্রদান করা সম্ভব। এলাকাবাসী আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন।
এ বিষয়ে মারিশ্যা পোস্ট মাস্টার সুবল কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমরা লিখিত এবং মৌখিক ভাবে জেলা পোস্ট মাস্টারকে বিষয়টি অবগত করলেও আমাদের কোন প্রতি উত্তর দেয়নি। এখানে মানুষের সম্পদ যেমন অনিরাপদ, তেমনি আমাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার মৌসুমে কাজ করা একই বারে অসম্ভব হয়ে পরে।
জেলা পোস্ট মাস্টার গোপাল নাথ বলেন, মারিশ্যা-৪৫৯০ পোস্ট অফিসের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের এমন বেশ কয়েকটি পোস্ট অফিসের নাজেহাল অবস্থা রয়েছে। ধাপে ধাপে কাজ চলছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা পোস্ট অফিসের প্রকল্প আসলে ওটার কাজ শুরু করা হবে।
শিপ্র/শাহোরা/সাআমা/