শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
বড় মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় ছোট মেয়ে সুরজিনা আক্তার জাহান হক লিজাকে টানা চার বছর ধরে বদ্ধ ঘরে আটক করে রেখেছিলেন তার বাবা এনামুল হক।
ঘটনাটি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভা এলাকায়। খবর পেয়ে রবিবার (২৭ জুলাই) স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে অবসরপ্রাপ্ত মেডিকেল অ্যাসিট্যান্ট এনামুল হকের বড় মেয়ে লিমা আক্তার পালিয়ে বিয়ে করেন এক যুবককে। এরপর ২০২১ সালে ছোট মেয়ে সুরজিনা আক্তার জাহান হক লিজাকে এসএসসি পাশের পর থেকেই পড়াশুনা বন্ধ করে বাড়িতে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন বাবা এনামুল। বেশির ভাগ সময় ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হতো। কখনো মেয়ে প্রতিবাদ করলেই বাবা এনামুল ও সৎমা মিলে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এক পর্যায়ে বাবা মেয়েটির মাথাও ন্যাড়া করে দেয়।
ওই বাড়িতে প্রতিবেশিদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করে দেন তারা। প্রতিবেশীরা নির্যাতন করার সময় মেয়েটর আর্তনাদ শুনতে পেতেন। দিনের পর দিন মেয়েটির ওপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রবিবার পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।
মেয়েটিকে মুক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বাবাকে নির্দেশ দেয় পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন হোসেন বলেন, ‘লিজা সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। লেখাপড়াও ভালো করত। প্রায় চার বছর আগে লিজার বড় বোন লিমা ভালবেসে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট মেয়ে যেন এমন কাজ না করতে পারে এজন্য কয়েক বছর ধরে নিজ বাড়িতে আবদ্ধ করে রাখেন তার বাবা। বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।’
মেয়েটির প্রতিবেশী জনি হোসেন বলেন, ‘লিজাকে তার বাবা এনামুল ঘরে আটকে রেখে ঘুমের ইনজেকশন দিতো। কোনো এক সময় মাথার চুলও কেটে দিয়েছে। মাঝেমধ্যে মেয়েটি চিৎকার করতো। এমন বাবার বিচার হওয়া উচিত।’
লিজার সৎমা ফেরজা ওরফে ফেতু বলেন, ‘তার স্বামী প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো কথা বলার সাহস হয়নি। বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় গেটে তালা দিয়ে বের হয়। আবার ফিরে এসে তালা খুলে দেয়।’
লিজার বাবা এনামুল হক বলেন, ‘বড় মেয়ে লিমা আক্তার পড়াশোনা করতে গিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছে। এতে আমার সম্মানের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। ছােট মেয়ে লিজা ২০২১ সালে এসএসসি পাশ করেছে। লেখাপড়াতেও ভাল ছিল। মেয়েটি সুন্দর হওয়ায় ছেলেরা বিরক্ত করত। এ কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ করে বাড়ির বাইরে বের হতে দিইনি। আমি সকালে তালা দিয়ে বাইরে যাই আবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তালা খুলে দিই। বর্তমানে মেয়েটি অসুস্থ। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য না।’
আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র বলেন, ‘মেয়েটিকে দীর্ঘদিন আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য তার বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শিপ্র/ শাহোরা/