নরসিংদী প্রতিনিধি
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার মাঝারি আকারের ভয়াভহ ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত এ ভূকম্পনের উৎপত্তি নরদিংসদীর মাধবদীতে।
এদিকে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাবে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে জাতীয় গ্রিডের সাব-স্টেশনের যন্ত্রাংশ পুড়ে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল শহিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পের কারণে এ আগুনের ঘটনা ঘটে৷ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন তারা।
বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত
ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
এক বার্তায় পিডিবি বলেছে, ভূমিকম্পজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পিডিবির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক শামীম হাসান জানান, বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। ভূমিকম্পের পরে আরেকটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। বিবিয়ানায় ইউনাইটেডের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
ভূমিকম্পে ঢাকার বংশালে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারী মারা গেছে; ফাটল ধরেছে বহু ভবনে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি ভবনের দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে। গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পে নরসিংদীতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রায় সব উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নরসিংদী শহরের অনেক ভবন ফেটে ও হেলে পড়েছে। পলাশ উপজেলার বহু ভবনে হয় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক ভবন হেলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিপ্র/শাহোরা/