রাঙামাটি প্রতিনিধি
সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় সেই সাথে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গত দু’দিন ধরে মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি এ জেলায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ আজ বুধবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।
এদিকে পাহড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি শহরের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। রাঙ্গামাটি লোকনাথ মন্দির আশ্রয় কেন্দ্রে মাত্র ২ টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এখনো কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।
রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র অবজারভার ক্যা চি নু মারমা জানান, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যেহেতু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ রয়েছে তাই এই বৃষ্টিপাত আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পাহাড় ধসে ২০১৭ সালে দুই সেনা কর্মকর্তা ও পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন, বেসরকারি হিসেব মতে আরও বেশি এবং ২০১৮ সালে ১১জনের মৃত্যু হয়েছিলো। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মানিকছড়ি শালবাগান অংশে ১০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে দীর্ঘ ৯দিন সারাদেশের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
শিপ্র/শাহোরা/