শিরোনাম :
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে নরসিংদী পৌরসভা পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক  মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে মুগ্ধ রিজিয়ন কমান্ডার ওয়াদুল মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নরসিংদীর যুবলীগ নেতা আবু তালেব  বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আগামী জুনের মধ্যে দেওয়া হবে হেলথ কার্ড : স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষকে  বরণ নরসিংদী বয়েজ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ  ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘নরসিংদী ম্যারাথন ২০২৬’; শীঘ্র রেজিস্ট্রেশন শুরু বাংলা নববর্ষে শুভেচ্ছা জানান বাসপা’র নরসিংদীর সা. সম্পাদক খালেদ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন

আ’লীগ নেতা কায়সার থেকে জমি কিনে অনেকেই জিম্মি; টাকা চাইলেই হুমকি!

Reporter Name / ১৩৯ Time View
Update : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

হিন্দিতে একটি প্রবাদ বাক্য প্রবাদ বাক্য আছে যা আমরা সবাই জানি ‘বাপ কা বেটা, সিপাহীকা ঘোড়া’। এই প্রবাদ বাক্যটি যেন আ’লীগ নেতা কায়সার ই আলম প্রধান’র বেলায় যথার্থ। এলাকায় কথিত আছে বাবা আব্দুল গফুর মাস্টার যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে হিন্দুদের জায়গা বিশেষ করে গঙ্গা নামে এক হিন্দু জমিদারের জায়গা-জমি দখল করে তাকে দেশ ছাড়া করে ছিলেন। আর সেই গফুর মাষ্টার’র ছেলে কায়সার ই আলম প্রধান। যিনি ভূয়া দলিল দেখিয়ে মানুষের কাছে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। নরসিংদীর বেলাব উপজেলার একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করবে বলে টাকা নিয়ে জমিতো বুঝিয়ে দেয়ই নি এরপর টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জুপিটার পাবলিকেশন্স’র সত্ত্বাধিকারী কায়সার ই আলম প্রধান’র গ্রামের বাড়ী নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়ন’র ধুকুন্দী গ্রামে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসন থেকে হতে চেয়ে ছিলেন এমপি। জমি বেচার নামে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া কালোটাকার জোড়ে এলাকায় শোডাউন, পোস্টার এবং একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও তৈরি করেছিলেন। দলের সিনিয়র নেতাদের রাজি-খুশি করে নিজের প্রভাব দেখাতে হয়ে ছিলেন আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গানো সেই তথাকথিত জয়বাংলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়ামের মেম্বার।

রাজনীতি আর সমাজসেবার নামের আড়ালে তার পরিচয় হয়ে উঠেছিল জমি জালিয়াতির মাফিয়া। গ্রামের বাড়ী বেলাব উপজেলায় একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করবে বলে টাকা নিয়ে তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দেয়নি এমনকি টাকাও ফেরত দেননি। তিনি মানুষকে মানুষিকভাবে ভীতসন্তস্ত ও জিম্মি রাখতে সবার সামনেই অস্ত্র বের করে সামান্য ঘষা মাজা করে রেখে দেন। তিনি যা নন তাই বলে নিজের নানা সময়ের মিথ্যা বানোয়াট কিছু ঘটনার বর্ণানা করে সাধারণ মানুষদের অজানা আতঙ্কের মধ্যে রাখাই যেন তার কাজ।

শুধু তাই নয় সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ’র সাথে তোলা একাধিক ছবিকে পুঁজি করে বেনজি’র ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচয় দিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রেখে পরের টাকায় পোদ্দারি ভালোই করেছেন। এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি। তবে এখন অনেক কিছুই বের হয়ে আসছে।

এদিকে গত ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তন হয়েছে। সারাদেশে অধিকাংশ আ’লীগ নেতারা আত্মগোপনে চলে যায়। যারাও এলাকাতে রয়েছে তারা চুপসে গেলেও কায়সার ই আলম প্রধান’র
দাম্ভিকতা এখনও কমেনি।

সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয় এক পাওনাদারের সামনে বলা তার কথা। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায় “দুই হাজার সাল থেকে দুই হাজার চোদ্দ /ষোল পর্যন্ত আমার পরনেই দুই কোটি টাকা থাকতো। আমার এই হাত ঘড়িটার দাম ২২ লাখ টাকা, আমার মোবাইল ফোনটার দাম ৫ লাখ টাকা। এটা গোল্ডের। শার্টের দাম থাকতো ২ লাখ, প্যান্টের দাম থাকতো ৮০ হাজার। এভাবে প্রত্যেকটা দামী জিনিস।”

এক জমির ৩-৪ জনের কাছে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিগত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নসাৎ করতে ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের অর্থের জোগান দিয়েছিলেন কায়সার ই আলম প্রধান। তার কথোপকথনের ভিডিওতে দেখা যায় তিনি দম্ভসহ বলেছেন- “জুয়া খেলতে গিয়া আমি ৭০ কোটি টাকা হারছি। এরপরও আমার কাছে ৭০ কোটি টাকা আছে “।

সে নিজের মুখেই বলে জাল দলিল আর বৈধ দলিল, বহু সম্পদ তার নামে আছে, জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। জুপিটার পাবলিকেশনের মালিক। প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে।

কায়সার ই আলম প্রধান তার সাথে বহন করেন ইজরায়েলের তৈরি ওজি মেশিন গান, ওয়েল্থার পিপিকে এস এর মত নামী দামী কোম্পানির অস্ত্র। বর্তমান অন্তর্বতী সরকার সকলকে অস্ত্র জমা দেওয়ার দিয়েছে। নির্ধারিত সময় সীমা পার হলেও তিনি তার সেই সব অস্ত্র জমা দেননি। নয়তো এখনও তার কাছে অস্ত্র থাকে কি করে? নাকি যেটা আছে সেটা লাইসেন্স বিহীন অবৈধ অস্ত্র? এমন প্রশ্ন উঠলেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলেননা!

টাকার জোরে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলার কৌশলও নাকি তার জানা। “সরকারে যে দলই থাকুক কেন সেই সরকারকে আমি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নেব” এমন কথাও তাকে বলতে শোনা গেছে।

“এখন মানুষ আমার কাছে ৬০ কোটি টাকা পায়। এর মধ্যে ব্যাংক পায় ২৫ কোটি আর বাকি ৩৫ কোটি পাবলিক। শুধু তাই নয় দাম্ভিকতার সাথে তাকে একথাও বলতে শুনা গেছে যে, আল্লাহর রহমতে কেউ এ পর্যন্ত এসে এই টেবিলে হাত দিয়ে টাকা চায়তে পারেনি। কারন তারা জানে টাকা চাইলে তাদের হাত এখানেই রেখে দেবো। আমার যখন টাকা হয় আমি নিজে টাকা দিয়ে দেই।”

তাছাড়া সে নিজেই বলে বেড়াতো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপি, স্থানীয় চেয়ারম্যানরা ছিল তার পকেটে। আর এসব ভয় ভীতির কারনে তার কাছে জায়গা কেনার টাকা দিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে ছিল ভুক্তভোগী লোকজন। একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছে সেনাবাহিনী এবং দুদকের সদর দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

এতোসব অভিযোগের বিষয়ে আ’লীগ নেতা কায়সার ই আলম প্রধানের কাছে জানতে তার মোবাইল ০১৭৮৭৩৩৩৩৩৩ ও ০১৭৭৬২২২২২২ এই নাম্বারেই বেশ কয়েক ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!