শিরোনাম :
আমি মানুষের খাদেম হিসেবে কাজ করতে চাই ; ইঞ্জি.আশরাফ বকুল চকরিয়ায় চোরাবালিতে ডুবে ২ কিশোরীর মৃত্যু ফরিদপুরের দুই উপজেলায় সংঘর্ষে আহত ৩০, বাড়িঘরে আগুন চট্টগ্রামে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের প্রাণ গেল বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের কল্যাণে: ড. আব্দুল মঈন খান কোবে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী সভা ও ইফতার মাহফিল  ইংরেজিতে কথা বলতে অনুপ্রাণিত করতে এনআইসিতে সেমিনার আদিয়াবাদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা বীরপুরে ২৪ প্রহরব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন মহোৎসব; ভক্তদের মিলনমেলা ‘অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন

ষেfড়শীর ঘরে আটক ৫৭ বছরের প্রেমিক; সাড়ে ৩ লাখ টাকায় রফাদফা

Reporter Name / ২৮৬ Time View
Update : শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম শিংঝাড় এলাকায় ষোলো বছরের তরুণীর ঘর থেকে আটক হয়েছেন ৫৭ বছরের এক প্রেমিক।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর ) রাত ৮টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রায়গঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা আকরামুল হক রানুকে (৫৭) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনির হাট ইউনিয়নের পশ্চিম শিংঝাড় এলাকায় এক তরুণীর ঘরে আটক করেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, একরাত একদিন আটক থাকার পর সাড়ে তিন লাখে করা হয় মীমাংসা। সে টাকার তিন ভাগের দুইভাগ হয়েছে ভাগাভাগি। মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছে ভুক্তভোগী। বাকি টাকা জনপ্রতিনিধি, মাতবর ও নেতাদের পকেটে। অভিযোগ তুলেছেন কিশোরীর পরিবার। টাকা ভাগ-বাটোয়ার কথা স্বীকারও করেন জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক নেতা।

স্থানীয়রা জানান, আকরামুল হক রানুকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনির হাট ইউনিয়নের পশ্চিম শিংঝাড় এলাকায় এক তরুণীর ঘরে আটক করেন এলাকাবাসী। ওই তরুণী এবার জয়মনির হাটের বাউশমারী ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিয়েছেন।

এদিকে রায়গঞ্জ বাজারের পাশের বাসিন্দা রানু দীর্ঘদিন দুবাইতে ছিলেন। আগে দু’টি বিয়ে করেছেন। দুই সন্তান রেখে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। রানুর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেন তার প্রথম স্ত্রী, মামলা চলছে আকরামুল হক রানুর বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করছেন। সেখানে এক সন্তান রয়েছে। স্থানীয় অনেকে জানান, মাদক সেবনের অভ্যাস থাকায় প্রায়ই মাদক সেবন করতে সীমান্ত এলাকায় যান রানু। ওই মেয়ের বাড়ি সীমান্ত এলাকায়। প্রায়ই সেখানেও যেতেন।
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাতে আটকের পর রায়গঞ্জ এলাকার বেশ কিছু লোকজনসহ জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে রানুকে উদ্ধার করতে গেলে এলাকাবাসী বিয়ের দাবি জানায়। সারারাত ও শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনভর ভুক্তভোগী কিশোরী বিয়ের দাবিতে অনড় থাকেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জয়মনিরহাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বাদল তালুকদার, চার ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় নেতা-কর্মী ও মাতবর মিলে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিষয়টির রফাদফা করেন।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই টাকার মধ্যে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার পেয়েছে মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার করা হয়েছে। টাকা ভাগের কথা স্বীকারও করেছেন ইউপি সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের দাবি মেয়ের পরিবারের হাতে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই অভিযোগ করে বলেন, ওসমান আর একজনসহ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারা বলেছিল, আরও অনেকে রয়েছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান ছিল। তারা টাকা নিয়েছে। আর কিছু ছেলে ছিল, তারা-ও নিয়েছে। হারুন, গোলাম, রেজাউল, রন্জু, আতা, আরও অনেকে ছিল। আমি এক লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি।’ ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘তারা রাত জাগছে। এহানে ছিল। তাই তারা টাকা নিছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর ভাই বলেন, টাকা দিছিল। ওসমান আর একজনসহ ২০ হাজার টাকা নিলো। বলল, অনেকে আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যানে ছিল। ওরা নিয়েছে। আরও কিছু ছেলে ছিল ওরাও নিয়েছে। হারুন, গোলাম, রেজাউল, রন্জু, আতা আরও অনেকে ছিল। এক লাখ ২০ হাজার টাকা পাইছি।
মেয়ের মা বলেন, তারা রাত জাগছে। এহানে ছিল। তাই তারা টাকা নিয়েছে।

ভুরুঙ্গামারীর ওসমান দাবি করেছেন, আমি ছিলাম, কিন্তু টাকা নেইনি। ওরা মিথ্যা বলছে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘কিশোরীর সঙ্গে ওই লোকটার দুই বছরের সম্পর্ক ছিল। আটকের পর সারারাত আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম। তারা বলেছিল, বিয়ে দিবো। শুক্রবার চেষ্টার পর তারা একটা ফয়সালা করেছে। বাদল ভাইও ছিলেন।’ টাকা ভাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, না। তাদের দুই লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল।’

সাবেক চেয়ারম্যান বাদল তালুকদার বলেন, তার দুই বউ, বাচ্চা আছে। এরপর তো বিয়ে দেয়া যায় না। মেয়েটা তো ছোট। মীমাংসা কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।’ বাকি দেড় লাখের বিষয়ে বাদল তালুকদার বলেন, ‘ওখানে চারজন ইউপি সদস্য ছিল, নেতা-কর্মী ছিল, অনেক লোকজন ছিল। বোঝেনই তো।

যদিও আকরামুল হক রানু দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়েছেন। এটা নিয়ে পড়ে কথা বলবো।

রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মণ্ডল বলেন, এটা জঘন্য কাজ করেছে। পরবর্তীতে কী হয়েছে তা আমি জানি না, কারণ আমি ঢাকায় ছিলাম।

জয়মনির হাট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ জানান, আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল ভাই ছিলেন, এবং চারজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে মীমাংসা হয়েছে। সাড়ে ৩ লাখ টাকার কথাটা আমি জানি, তবে এর বেশি কিছু জানি না, কারণ আমি উপস্থিত ছিলাম না।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!