শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে পানির রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হল বাংলাদেশকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে নরসিংদী পৌরসভা পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক  মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে মুগ্ধ রিজিয়ন কমান্ডার ওয়াদুল মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নরসিংদীর যুবলীগ নেতা আবু তালেব  বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আগামী জুনের মধ্যে দেওয়া হবে হেলথ কার্ড : স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষকে  বরণ নরসিংদী বয়েজ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ 
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

নদীর তীর সংরক্ষণে উন্নয়ন কাজ বন্ধ; ভাঙ্গন আতঙ্কে রায়পুরার নদীপাড়ের মানুষ

মো. শাহাদাৎ হোসেন রাজু / ২৬১ Time View
Update : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক 

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলবাসীর দুর্ভোগ ও আতঙ্কের অপর নাম নদী ভাঙ্গন। উপজেলার আটটি চর ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত ভাঙছে কোন না কোন ইউনিয়নের নদী পাড়ের ফসলি জমি, বসত, স্কুল কলেজ, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, অত্র অঞ্চলের নদী ভাঙ্গন থেকে রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের মহিষবেড় গ্রাম রক্ষার্থে নদীর তীর সংরক্ষনে জিও ব্যাগ ফেল ব্লক বিছিয় দিয়ে নদীর পাড় বাধাই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় সরকার। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে বাস্তবায়নে দুইটি প্যাকেজের মধ্যে যার একটি ১৫৫ ফুট ও অপরটি ২২০ ফুট। মোট ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ দুটি প্যাকেজের ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাঃ লিঃ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের কার্যাদেশ দেয়।

কার্যাদেশ পেয়ে যথারীতি কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে তাদের কাজের গতি ছিল প্রয়োজনের তুলনায় তাদের কাজের গতি ছিল মন্থর। এদিকে প্রকল্পের কাজের সময় শেষ হয় আসলেও আনুপাতিক হারে সেই পরিমান কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের গতি বাড়িয়ে যথাসময়ের মধ্য শেষ করার জন্য কয়েক দফা তাগিদ দিলেও কোন কথাই আমলে নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা। গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৮ মাসে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি।

তাদের কাজের এই ধীরগতির ফলে বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া কার্যাদেশ বাতিল করে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের কার্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন।। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। পরবর্তীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পক্ষ থেকে কার্য্যদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে আবারও উচ্চ আদালতের রীট আবেদন করা হলে আদালত ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন।

তবে স্থানের স্থানীয় প্রতিনিধি নাবির পাঠান বলেন অন্য কথা। তিনি বলেন আমরা কাজটি যখন পাই ঠিক তখনই দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়। জুলাই আন্দোলনে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। এ অবস্থায় উন্নয়ন কাজ করা ব্যাহত হবে সেটাই স্বাভাবিক। উচ্চ আদালতে আমাদের করার রিট আবেদনে আদালত ৬ মাসের গীতা দেশ দিলে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভা গত ১৬ জুন প্রকল্পের অগ্রগতি বজায় রাখার স্বার্থে শীঘ্রই কাজ শুরু করা প্রয়োজন মনে করেন। তাছাড়া যেহেতু সাইডে কাজ শুরু করার জন্য মালামাল সংরক্ষিত আছে। তাই কাল বিলম্ব না করে কাজ শুরু তাগিদ দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে ২১ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করা কথা বলি আমরা।

নাবির পাঠান বলেন, আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর এখন রাত এই সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শুরুর করার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বিভাগ থেকে কোন অফিস অর্ডার পাইনি।

স্থানীয় মহেশভেড় গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, বিগত কয়েক বছর আমরা নদীপাড়ের বাসিন্দারা ভাঙ্গনে আতঙ্ক ছিলাম। গত বছর যখন নদীর পাড় বাধার এই প্রকল্প চালু হয়। তখন আশায় বুক বেঁধেছিলাম আমাদেরকে আর আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হবে না। কিন্তু আমাদের সেই আশা গুড়ে-বালি। বিগত ছয় সাত মাস যাবত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ কবে নাগাদ চালু হবে সেটাও বলতে পারিনা তাই বলা যায় যে লাউ সেই কদু।

আব্দুর রহমান খন্দকার নামে মহেশেবেড় এলাকার অপর এক বাসিন্দা বলেন, বিগত কয়েক বছরের মেঘনার ভাঙ্গনে আমাদের গ্রামের কয়েক বিঘা ফসলি জমি, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন লোকজনের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আমাদের এলাকার মানুষ সব সময় অঙ্কের মধ্যে থাকতো। এরই মধ্যে কাজ আসে আমাদের এলাকায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও কিছুদিন পর তাদের সাথে ইঞ্জিনিয়ারের কি নিয়ে জানি বিবাদ হয় তাদের মধ্যে এই বিবাদের কারণেই উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সরকারের কাছে আমরা এলাকাবাসীর একটাই দাবি অতি শীঘ্রই এই উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু করে আমাদেরকে ভাঙ্গন আতঙ্ক থেকে আমাদেরকে রেহাই দিতে।

মাসুম সরকার নামে মহেশভেড় এলাকার বাসিন্দা বলেন অনেকদিন আগেই মালপত্র এনে রেখেছে ইতিমধ্যে অনেক মালপত্র নদীর স্রোতের তোরে ভেসে গেছে। ইঞ্জিনিয়ার এর জন্য মূলত কাজটা হচ্ছে না আমি জানিনা কেন ইঞ্জিনিয়ার কাজটাকে আটকে রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে সরকারের কাছে আমার দাবী থাকবে অতি দ্রুত এ বেরিবাদের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়, সরকার সেই ব্যবস্থাই যাতেকরে।

ওই এলাকার ভাঙ্গনের মুখে বাড়ী-ঘর হারিয়ে নি:শ্ব সোহেল মিয়ার স্ত্রী বলেন, নদীগর্ভে আমাদের বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়। শুধু আমরাই ঘর হারিয়েছি তা নয় এই এলাকার দেড়-দুইশ পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে মাথা গোজার ঠাি টুকু পর্যন্ত নেই আমাদের। তবে যেটুকু আছে সেটুকু যাতে টিকে থাকে সেজন্য আল্লাহর কাছে সর্বক্ষণ দোয়া করি। আমরা এই বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করে সরকার আমাদেরকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করুক।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রব মিয়া বলেন, আমরা মহেশবের ‘গ্রামের বাসিন্দারা সবসময় নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে আছি। নদী ভাঙ্গন রোধে সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সেটার কাজ দ্রুত শেষ করা জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি সরকারে প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

নরসিংদী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম, নাজমুল ইসলাম বলেন, শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। উক্ত কার্যা দেশ হাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে চাইলেও তারা বিলম্ব ফি দিতে রাজি নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হলে নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে।

এম, নাজমুল ইসলাম বলেন, তবে যেহেতু কাজটির জনগো গুরুত্বপূর্ণ তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব আইনগত সমস্যাগুলো নিরসন সাপেক্ষে এর কাজ শুরু করার ব্যবস্থা করবো।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!