নরসিংদী প্রতিনিধি
দেশে দফায় দফায় ভূমিকম্পের ফলে মানুষের আতঙ্ক যেন কমছেই না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভূমিকম্প থেকে প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছেন মানুষ। শুক্রবা (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে ৫ জন নিহত এবং প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। এরপর শনিবার (২২ নভেম্র) আরও দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শনিবার নরসিংদীর মানুষ গভীর রাতেই খোলা মাঠে আশ্রয় নেন।
নরসিংদী শহরতলীর গাবতলি এলাকার জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে, মাধবদীর এসপি স্কুল ও গার্লস স্কুল মাঠে এবং পলাশ উপজেলার পিডিবি ও প্রাণ-আরএফএল মাঠসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত মানুষ জড়ো হন। আশঙ্কা ছিল— যেকোনো মুহূর্তে আবারও ভূমিকম্প হতে পারে।
পলাশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাজী মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাত ১১টার পর পলাশ ওয়াপদা গেট এলাকায় মানুষ কাঁথা-বালিশ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। একই দৃশ্য দেখা যায় পলাশ বাজারেও। অনেকেই পিডিবির মাঠে অবস্থান নেন।
মাধবদীর বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, রাত পৌনে ১টা বাজে, শিশু সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছি। কে জানে? গুজব না গজব-কিছুই বলতে পারছি না।
এ সময় কথা হয় দীপা রানী, সজল, নিরবসহ আরও কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে।
নিরব বলেন, বিরামপুর পৌর শহরের ৮ তলা ভবনে থাকি। আনন্দী এলাকায় খালার বাড়িতে যাচ্ছি। সেখানে টিনের ঘর-ভূমিকম্প হলেও দেয়াল চাপা পড়বে না।
আবুল হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ফেসবুকে দেখেছি, রাত ১২টায় নাকি ভূমিকম্প হবে। তাই আর বাড়িতে যাইনি, বাজারেই আছি।
আতঙ্কের রাত পার করে সকালে নরসিংদীর মানুষ স্বাভাবিক কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে সতর্কতা হিসেবে কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাধবদী মর্নিং সান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রবিবারের পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
নরসিংদীর গাবতলি এলাকার দলিল লেখক মো. কবীর হোসেন বলেন, এবারের ভূমিকম্পে গাবতলীতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তাই মানুষ বুঝে ওঠার আগেই খোলা মাঠে ছুটে যায়। শনিবার রাতে আমার বাড়ির সবাই খোলা মাঠে চলে যায়, আমি একাই বাড়িতে ছিলাম। এ অঞ্চলের শত শত মানুষ কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ রাত ২টা ৩০ মিনিটে আবার ভোরের দিকে বাসায় ফিরে আসেন।
এছাড়া ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সভায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে গুজব না ছড়াতে এবং গুজবে কান না দিতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারিভাবে নরসিংদীতে ভূমিকম্পে নিহত ৫ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নগদ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মেনে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের।
শিপ্র/শাহোরা/