নিজস্ব প্রতিবেদক
বানেছা বেওয়ার বয়স ৯৫ পেরিয়ে ৯৬ চলছে। মৃত্যুর পর চল্লিশা হবে কি না, সন্তানরা করবে কি না, এই ভেবে বেঁচে থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন সেরে ফেলেছেন তিনি। ভাত, গরুর মাংস, মাছ, আলুঘন্ট ও খাসির মাংস এলাকাবাসীকে পেট ভরে খাইয়ে মৃত্যুর আগে নিজের ভুলত্রুটির বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন ওই নারী। এলাকাবাসীও তার জন্য মন খুলে দোয়া করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর পবা উপজেলার কমলাপুর গ্রামে। ওই গ্রামের খড়খড়ি বাইপাস কমলাপুর গ্রামের প্রয়াত ইনছার আলীর স্ত্রী বানেছা বেওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) এই আয়োজন করা হয়। ১২ সন্তানের জননী বানেছা বেওয়ার ইচ্ছা পূরণে সন্তানরাও সহযোগিতা করায় সফলভাবেই অনুষ্ঠিত হয় এই চল্লিশার আয়োজন। এ আয়োজনে বানেছার ৮ ছেলে, ৪ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ প্রায় ৬০ জন পরিবারের সদস্য একত্রিত হন। সবাই দোয়া করেন বানেছার জন্য।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার গ্রামে সাজানো হয় বিশাল প্যান্ডেল। নীল-সাদা শামিয়ানা, গরু-ছাগল জবাই, আর দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না। দুপুর থেকেই আশপাশের গ্রাম, এমনকি দূরের মানুষও ছুটে আসেন এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হতে। খাওয়া শেষে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত।
বেওয়ার বড় ছেলে জান মোহাম্মদ বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমার মা ৯৫ বছর পেরিয়েও সুস্থ-সবলভাবে চলাফেরা করছেন। মায়ের ইচ্ছার কথা শুনে আমরা ভাইবোন এমন উদ্যোগ নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৩০০ মানুষের এমন আয়োজনে আমরা মাকে হাসি-খুশি দেখতে পেয়েছি। এতে আমাদের গর্বে বুকটা ভরে গেছে।’
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জহির উদ্দিন বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়াটা বড় কথা নয়, এমন এক দৃষ্টান্ত আমাদের মনে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলেছে।’
ঘুরে ঘুরে সবার খাওয়া-দাওয়া দেখছিলেন বানেছা বেগম। তিনি বলেন, ‘মরার পরে যদি কেউ চল্লিশা না করে, তাই আগেই করলাম। তাতে সবাইকে খাওয়ানোও হলো, দোয়াও পেলাম। এখন মনে শান্তি লাগছে। মরার পরে না, বেঁচে থাকতেই মানুষের দোয়া পাওয়া যে কত সুন্দর!’
শিপ্র/শাহোরা/তমোআজা/