নরসিংদী প্রতিনিধি
ঢাক-ঢোলে বাজছে বিদায়ের করুণ সুর। ফুল হাতে নিবেদন করা হচ্ছে ভালোবাসা। অশ্রুসিক্ত ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসী। গাঁদা আর গোলাপে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে শেষ বারের মতো বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম। এমনই রাজকীয় এক সংবর্ধনায় তাকে জানানো হয় বিদায়। শিক্ষক তাজুল ইসলামকে অবসরোত্তর বিদায় উপলক্ষে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়ী জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয়রা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রায়পুরা ১২নং সাহারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়।সংবর্ধিত করা হয় ফুলেল শুভেচ্ছায়। পরে মাঠে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিদায়ী শিক্ষক তাজুল ইসলাম তার স্মৃতি কথা তুলে ধরেন। প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামকে নিয়ে স্মরণীয় মুহুর্তগুলো বর্ণানা দিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী, ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. হিমেল মিয়া, আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম আকাশ, সেনাবাহিনীর সৈনিক ইমরানুল ইসলাম, রায়পুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা মনির সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম ছিলেন আদর্শ শিক্ষকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান এলাকার মানুষ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ছিলেন নিরলস পথপ্রদর্শক। আলোচনা শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামের বিদায়ী বক্তব্য ছিল সবচেয়ে করুণ ও কষ্টের। এসময় তিনি বক্তব্য দিয়ে গিয়ে নিজে কাঁদলেন কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে। তার কথা শুনে কঠিন হৃদয়ও গলেছে ফেছে অশ্রুসজল।
অনুষ্ঠান শেষে আবারও শিশুর সজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি করে শিক্ষক তাজুল ইসলামকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসা হয়।
শিপ্র/শাহোরা/