নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর চরাঞ্চলে জুলাই গণ-অভূত্থানের পর এলাকা থেকে বিতারিত আা’লীগ নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফেরা চেষ্টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দিয়ে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষে ইদন মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।এই ঘটনা আহত হয়েছে আরো পাঁচজন এরমধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হযেছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইনজনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে নরসিংদী সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রাম থেকে বিতাড়িত আ’লীগ নেতাকর্মীদের এলাকায় প্রবেশে বাধা দিলে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইদন মিয়া ওই ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের কেনু মিয়ার ছেলে। তিনি সম্পর্কে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের চাচা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সরকারের সময় আলোক বালি ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদ্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম সরকার ও আলোক বালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এডভোকেট আসাদউল্ল্যা মধ্যে দহরম মহরম ছিল। তারা বালু ব্যবসায় পার্টনারও ছিল। কিন্তু ৫ ই আগস্টের পর তাদের দুজনের শেষ সম্পর্কে ভাঙন দেখায় দেয়। আসাদুল্লাহকে ব্যবসায়িক পাটনা হিসেবে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে বালু ব্যবসায় একক রাজত্ব কায়েম করে। এদিকে সরকার পতনের পরপর এডভোকেট আসাদুল্লাহ গা ঢাকা দেয়। তার অনুসারীরাও গ্রাম থেকে বিতাড়িত হন। দীর্ঘদিন বিতাড়িত থাকার পর স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতারা আশ্রয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামে প্রবেশের চেষ্টা চালায় এড. আসাদুল্লাহর অনুসারীর। তবে তাদের গ্রামে প্রবেশের এই খবর বুধবার রাত থেকেই শুনা যাচ্ছিল।
এদিকে আসাদুল্লাহর অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করলে কাইয়ুমের অনুসারীদের আধিপত্য অনেকটাই গর্ব হতে পারে। এমনটা ভেবে তাদেরকে গ্রামে প্রবেশে বাধা দেয় কায়েমের অনুসারীরা কাইয়ুমের অনুসারীরা। এ সময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ইদন মিয়া এবং অন্তত ৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে যান। এসময় আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাইউয়ুমকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সমর্থকরা। একপর্যায়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করলে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে অন্যান্য সংবাদিক ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালের ভেতরে আশ্রয় নেন তিনি।

এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আহত সাংবাদিক আইয়ুব খান সরকার বলেন, আমি বিএনপির দুই গ্রুপের সংর্ঘষের খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই এবং সংবাদ অফিসে পাঠাই। এই সংবাদ ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব কাইয়ুম সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই।
সদর হাসপাতালের আরএমও ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ঘটনার পরে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার মাথার ডান পাশে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। মাথায় ইনজুরির কারণে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিপ্র/শাহোরা/