শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর পার হলেও খাগড়াছড়ি পানছড়ি আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণ শেষ করেনি সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ঠিকাদারী সিন্ডিকেট। ঠিকাদারের গাফিলতিতে গুরত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে পানছড়ি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
কোথাও কোথাও সড়কের চিহ্নও নেই। সড়কের অসংখ্য ছোট বড় গর্ত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবে নামমাত্র কাজে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেছে সড়ক বিভাগ। আর টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদার। যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মধ্যে এ সড়ক নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খাগড়াছড়ি-পানছড়ি আঞ্চলিক সড়কের সাড়ে ২৫ কিলোমিটার সড়কের সাড়ে ২০ কিলোমিটারই ভাঙা। এ সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে ৮ শতাধিক পন্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন। সড়কের অসংখ্য ছোট বড় গর্ত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেশীরভাগ অংশ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও সড়কের চিহ্নও নেই। পন্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। চালকদের অভিযোগ পুরো সড়কটিতে গাড়ি চালানোর কোন উপায় নেই। মাত্র ২৫ কিলোমিটার সড়কে যাতায়াত করতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘন্টার বেশি সময়। একবার রাস্তায় চলাচল করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রী সাধারণ। তারা এর জন্য সড়ক বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করে বিচার দাবী করেছেন।
খাগড়াছড়ি-পানছড়ি ২৫ কিলোমিটার সড়ক সংষ্কারের জন্য ২০২৩ সালে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিন্ডিকেটের আবেদ মনসুর কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পান। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু শুরু না করলেও প্রায় দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করে সড়ক বিভাগ।
খাগড়াছড়ি জেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মাহবুবু আলম বলেন,খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান ছিলেন পলাতাক সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুগত। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের খাগড়াছড়ির সহস্রাধিক সাধারন ঠিকাদার কোন কাজ করতে পারেনি। কেউ টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ পেলেও সিন্ডিকেটের বাইরে কোন ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাকসুদুর ররহমান এখনো বর্তমান অন্তর্বতিকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুর্খী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরণ ভট্টাচার্য্য বলেন, ৬ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় ঠিকাদার বাড়তি বিল উত্তোলন করে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ফলে পানছড়ি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এড জসিম উদ্দীন মজুমদার এমন ঘটনাকে দুর্নীতি উল্লেখ করে সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওয়াদুল কাদের, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও ঠিকাদারের বিচার দাবী করেন।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাকসুদুর রহমান নিজের পক্ষে সাফাই গাইলেন। তার দাবী যে ঠিকাদারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে কাজ না করায় তাকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে দরপত্র বাতিল করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সড়ক বিভাগে এখনো বহাল তবিয়তে গোপালগঞ্জ ও ফ্যাসিবাদের দোসরা। ফলে ব্যাঘাত ঘটছে হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত সরকারের নতুন বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচী।
শিপ্র/শাহোরা/