শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

মেঘে ঢাকা আকাশ, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ধান শুকানো নিয়ে শঙ্কা

আব্দুল আউয়াল 
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ইটনা হাওরের কৃষক কামাল উদ্দিন। টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে পানিতে তলিয়েছে তার দুই একর স্বপ্নের বোরো ধান। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্রতিদিনই একটু একটু করে কিছু ধান কাটলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার। এই কৃষকের ভাষ্য, রোদ নেই, থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে- যে কারণে ধান শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে আরো এক হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, এ নিয়ে জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলিসহ আটটি উপজেলার হাওরাঞ্চলে মোট ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির পাঁকা ধান এখন পানিতে নিমজ্জিত। শুধুমাত্র, ইটনার হাওরে ডুবে আছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি। জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ৩৬ হাজার।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, উজানের ঢলে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে জেলার হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে বাড়তি মুজুরিতেও পাওয়া যাচ্ছে না ধান কাটার শ্রমিক। রোদের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে শত শত মণ মাড়াই করা ধান।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টিতে মাড়াই করা ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে নতুন করে ধান কাটতে চাচ্ছেন না তারা। এছাড়া রোদ তেমন না থাকায় ধান শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। কষ্টে ফলানো ফসলের এমন দশায় দিশেহারা তারা।

অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক মনসুর মিয়া বলেন, “আইজক্যা (আজ) সকাল থেইক্যা (থেকে) দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হইছে। ধান কাটার শ্রমিক পাইছিনা। এখন নষ্ট হওয়া ধান রইদে (রোদে) দিছি। এইত্যা ধান বাজারে বেচন যাইতো না। তবুও দেখি যদি কিছু ধান ভালা (ভালো) বের হয়, তাইলে ভাঙ্গা চাল হইলেও খাওনতো যাইবো।”

মিঠামইন হাওরের কৃষক গফুর মিয়া বলেন, ‍“আগে ধান কাটার শ্রমিকের মুজুরি ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন বিপদে পড়েছি তাই ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার নিচে কোনো শ্রমিক ধান কাটতে চাচ্ছে না। তাছাড়া, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।”

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, জেলায় মোট ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমিতে চাষ করা কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ৩৬ হাজার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা
তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায় সেজন্য আমরা কাজ
করে যাচ্ছি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category