শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’কে ঘিরে যত সব প্রশ্ন তা সময়ের সঙ্গে রহস্যময়

Reporter Name
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই চলচ্চিত্রে মাঝে মাঝে এমন কিছু বিষয় সামনে আসে, যা ‘বিতর্কের প্যাকেজে’ রূপ নেয়। আলোচিত ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ ঠিক তেমনই একটি কাজ; যা নিয়ে তৈরি হয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। সময়ের সঙ্গে এসব প্রশ্ন রহস্যময় হয়ে উঠছে।

শুরুটা হয়েছিল চিত্রনায়িকা মৌসুমীর অভিযোগ দিয়ে। একঘণ্টার নাটকের কথা বলে কাজ শুরু, পরে সেটাকেই সিনেমা বানানোর চেষ্টা—এ অভিযোগ হালকাভাবে নেওয়ার মতো ছিল না। কিন্তু তখনো কেউ ভাবেনি, সামনে আরো বড় বিস্ফোরণ ঘটবে।

সেই বিস্ফোরণ ঘটালেন অভিনেত্রী জেবা জান্নাত। পোস্টারে নিজের মুখ দেখে নিজেই বিস্মিত। জেবা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নামে কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি তিনি। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে—যে মানুষ অভিনয়ই করেননি, তিনি পোস্টারে এলেন কীভাবে?

বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। জেবার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তার ছবি পোস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো পারিশ্রমিক নেই, কোনো চুক্তি নেই, এমনকি প্রজেক্ট সম্পর্কে কোনো ধারণাও নেই। তাহলে এটা কি স্রেফ ‘ক্রিয়েটিভ প্রেজেন্টেশন’? না কি এর পেছনে আরো অস্বস্তিকর বাস্তবতা রয়েছে?

ফুটেজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরোনো কোনো নাটকের দৃশ্য কি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেটার অনুমতিপত্র কোথায়? সেন্সর বোর্ড তা কীভাবে পাস করে? না কি এখানেও প্রশ্নগুলো অদৃশ্য হয়ে গেছে?

এসব প্রশ্ন সিনেমাটির নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের কাছে রাখা হয়। তবে তার অবস্থান রহস্যময় ও অস্পষ্ট। সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো অভিযোগ করেছেন—“জেবা না কি ট্রলের কারণে এমন মন্তব্য করছেন।” কিন্তু মূল প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়া কি কোনো জবাব হতে পারে?

এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট। একজন শিল্পী বলছেন, তিনি কাজ করেননি। তবু তার মুখ ব্যবহার করে একটি প্রজেক্ট প্রচার করা হচ্ছে। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে সেটা শুধু অনৈতিক নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই উদ্বেগজনক।

‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ এখন আর শুধু একটি সিনেমার নাম নয়। এটা হয়ে উঠেছে একগুচ্ছ অমীমাংসিত প্রশ্নের প্রতীক। এটা কি সত্যিই একটি সিনেমা? না কি পুরোনো কনটেন্ট জোড়া লাগিয়ে নতুন মোড়কে বাজারে ছাড়ার চেষ্টা? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শিল্পীদের সম্মতি ছাড়া তাদের ছবি ব্যবহার করা হলে, সেই নির্মাণকে কী নামে ডাকা হবে?

চলতি মাসের ১৫ তারিখ সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে—এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় সংকট গল্পে নয়, বিশ্বাসযোগ্যতায়।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category