নরসিংদী প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও নানা অভিযোগের পর অবশেষে বদলি করা হয়েছে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. মনসুর আহমেদকে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিসাবরক্ষক পদে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
জানা যায়, নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাসপাতালের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যাদেশ পেত তার স্ত্রী ইরে জান্নাত (স্বপ্না)-এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তাহিরা এন্টারপ্রাইজ’। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিজের পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের নামে এসব কাজ বাগিয়ে নিতেন।

বিগত ৮ বছরে মনসুর স্বাস্থ্য বিভাগের মোট ১৪৩ টি কাজ বাগিয়ে নেয়।
এছাড়া, তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান গত আট বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে বলেও জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কৌশলী উপায়ে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ নিশ্চিত করার একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো।

মনসুর ও তার পাটনার
শুধু তাই নয়, ‘ইলেকট্র সায়েন্স’ নামে আরও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যদিও সেটিকে তিনি বন্ধুর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে থাকেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দাপ্তরিক ক্ষুদ্র কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিল প্রস্তুত করা হতো, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছিল।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বদলির ফলে কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে শঙ্কাও রয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে তিনি আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি আদেশ স্থগিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে এবারও তেমন কিছু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ বদলি কার্যকর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বদলি কার্যকর হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিপ্র/শাহোরা/