নরসিংদী  প্রতিনিধি
টাকার বিনিময়ে মো. হাবিবউল্ল্যাহ নামে এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলীম উদ্দিন নামে ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে থাকা অবস্থা এ কাজ করেন৷ সম্প্রতি এ অসাধু কর্মকর্তাকে সেখান থেকে বদলী করে মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জমিজমা সংক্রান্ত কাজে হয়রানি করে আসছেন। তবে অভিযোগ সামনে এলে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াই যেন তার নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আলীম উদ্দিন অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত কাজ করে থাকেন। এতে প্রকৃত জমির মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমিও অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি হাবিবউল্ল্যাহ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার বৈধ মালিকানাধীন জমি গোপনে অন্য ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠার পর আলীম উদ্দিন বিষয়টিকে “ভুল” বলে দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এর জন্য মালিককে এসিল্যান্ড অফিসে খারিজ বাতিলের জন্য আবেদন করতে বলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে নানা হয়রানি ও দালালচক্রের কবলে পড়ছেন। সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, ভুল তথ্য সংযুক্ত করা কিংবা অন্যের নামে জমি নামজারি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে আলীম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছিল। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি।” তাহলে এমন ভুল করে কেন মানুষকে হয়রানি করেন এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন কিসের হয়রানি। এটা কোন হয়রানি নয়।
সচেতন মহলের মতে, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হতেই থাকবে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এব্যাপারে শিবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মু. আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জমির বিষয় সব কিছু জানতে চান।  এই যেমন কার নামে কবে নামজারি করা হয়েছে। জমির পরিমাণ কতটুকু। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব বিষয় জানার পর তিনি অন্য কোন কথা না শুনেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।