চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

কর্ণফুলী ও দেশের নদ নদী রক্ষায় বৃহত্তম সামাজিক আন্দোলন সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলার দ্বিতীয় দিন সাম্পান শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে অনুষ্ঠিত কর্ণফুলী নদীর ২৩টি সাম্পান সমিতির তিন শতাধিক সাম্পান এই শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করে।

ব্যতিক্রম এই শোভাযাত্রাটি নগরের অভয়মিত্র ঘাট থেকে শুরু করে নদীর তিন কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে তিন শতাধিক সাম্পান।

কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন এর সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রায় সিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সুস্থ নদী উক্ত জনদের মানুষের সুস্থ ও রুচিশীল মানুষের পরিচয় বহন করে। দখল রাসায়নিক ও মানুষ্যসৃষ্ট বর্জে্য কর্ণফুলীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ হারিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্রসমূহ। এটা হতে দেয়া যায় না।

তিনি নদী ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিল্প রাসায়নিক কোন ধরণের বর্জ্য যাতে কর্ণফুলীতে ফেলতে না পারে সেজন্য আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খল বাহিনী সবধরনের সহযোগিতা করবে। কর্ণফুলীকে মাদক পরিবহনের রোড হতে দেয়া যাবে না। এই নদী বালু সন্ত্রাসীদের ঘাটি না হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কর্ণফুলী সুন্থ বিনোদন ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।

সাম্পান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আলী আব্বাস। তিনি বলেন, কর্ণফুলীর সাম্পান মাঝিদের রক্ষা করতে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের ঘাট ইজারার সুবিধা দিতে হবে। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। আশা করি তারা এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নেভাল-২ তে লাইটার জেটি স্থাপন করা হয়েছিল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের খাদ্যশস্য খালাসের জন্য। কিন্তু সেখানে সিমেন্ট ক্লিংকার ও রাসায়নিক বর্জ্য হিসাবে পরিচিত লোহার স্ক্র্যাপ খালাস করা হচ্ছে। যে কারনে পুরো ফিরিঙ্গি বাজার এলাকা মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বার বার হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও কর্ণফুলী তীরের ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। যা দুঃখজনক। অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যন ও সাম্পান খেলা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মীর্জা ইসমাইল, ইঞ্জিনিয়ার হারুন, মীর্জা বাহার, মোহাম্মদ সেলিম, ইছানগর বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুন নবী, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি জাফর আহমদ, সহ সভাপতি লোকমান দয়াল প্রমুখ।

শিপ্র/শাহোরা/লিস/