ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত ‘বিবাহিত’ সংক্রান্ত নীতিমালা উপেক্ষা করে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির ‘সুপার ফাইভ’ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, বিবাহিত কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না। অথচ ঘোষিত কমিটির সভাপতি আশিক সুজন মামুন নিজেই বিবাহিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কমিটি ঘোষণার পরপরই এটি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—বিবাহিত কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে থাকতে পারবেন না। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংগঠনের নীতিমালায় ‘বিবাহিত ক্রাইটেরিয়া’ কঠোরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা, মনোহরদী পৌরসভা ও বেলাবো উপজেলা—এই তিনটি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বেলাবো উপজেলা কমিটির ঘোষিত ‘সুপার ফাইভ’ সদস্যরা হলেন—সভাপতি আশিক সুজন মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক ফকির, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান সৌরভ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ রায়হান।
কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের বিভিন্ন পোস্টে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, সভাপতি আশিক সুজন মামুন বিবাহিত। পাশাপাশি জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সরাসরি ইউনিট কমিটি ঘোষণার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিভিন্ন পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে সভাপতি ও মেহেদী হাসান রিফাতকে সাধারণ সম্পাদক করে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে সেই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে। তবে তাদের মেয়াদকালে কোনো ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জেলা কমিটির ব্যর্থতার কারণেই কেন্দ্রীয় কমিটি সরাসরি ইউনিট কমিটি ঘোষণা করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া ঘোষিত কমিটিতে বিবাহিত সদস্যদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও সমালোচনা রয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের নীতিমালা অনুযায়ী অবিবাহিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও, বিবাহিত একজনকে সভাপতি করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, “জেলার বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির রয়েছে। সাংগঠনিকভাবেই তারা এই কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা মতে, ইউনিট কমিটির সদস্যরা এই নীতিমালার আওতাধীন নয়।”
অন্যদিকে, নরসিংদী জেলার ঘোষিত ইউনিট কমিটিগুলো নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নরসিংদী জেলার তিনটি ইউনিট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এ নিয়ে মিডিয়ায় মন্তব্য করা সমীচীন নয়।”
কমিটিতে বিবাহিত সদস্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ছাত্রদল সভ্পতি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—এই নীতিমালা কি শুধুই ছাত্রদলের জন্য প্রযোজ্য, নাকি অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত?