শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামার উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে সূর্যের দিকে মুখ তুলে ফুটে আছে অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল। পাহাড়ি এ জনপদে এমন দৃশ্য যেন শিল্পী আকাঁ একটি জীবন্ত চিত্রকর্ম। সোমবার (৩১ মার্চ) সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য নজরে আসে।
সূর্যমুখী শুধু দৃষ্টিনন্দন ফুলই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলজাতীয় ফসল। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল যেমন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, তেমনি বীজ সরাসরি ভাজা, সালাদ, দই কিংবা বিভিন্ন খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য। বিশ্বজুড়ে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
চলতি বছর লামা উপজেলায় অনেক কৃষক তামাক চাষ থেকে সরে এসে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন। তামাকের বিকল্প হিসেবে সরকারও কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। সরকারি সহায়তায় উপজেলায় প্রায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ফলনও আশাব্যঞ্জক।

কৃষি বিভাগ জানায়, ভাদ্র-আশ্বিন মাস সূর্যমুখী চাষের উপযুক্ত সময়। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করতে হয় এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ১০ মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।বর্তমানে দেশে সূর্যমুখীর বীজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০০ থেকে ১,৩০০ টাকার মধ্যে, যা বীজের মান ও ধরনভেদে এর দাম নির্ধারিত হয়।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অভিজিৎ বড়ুয়া জানান, উপজেলার ৪০ জন কৃষককে ১ বিঘা করে জমিতে সূর্যমুখি চাষের জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৫.৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখি আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে ফসল সংগ্রহের উপযোগী হয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে।
লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশজুড়ে বিস্তৃত সূর্যমুখির বাগান। প্রতিটি গাছের বড় আকারের হলুদ ফুল সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো এলাকা যেন হলুদ চাদরে ঢাকা পরে আছে। বাগানের মালিক স্থানীয় কৃষক মংক্যচিং মার্মা জানান, প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। চাষাবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন ১৫ থেকে ২০ মণ ফলন পাবেন এবং সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ করতে পারবেন।
একইভাবে গজালিয়া ইউনিয়নের সজারাম ত্রিপুরাও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার জমিতেও বড় আকারের ফুল ফুটেছে, যা তাকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
একই ভাবে ফাইতং ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, সূর্যমুখীর তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। কৃষকদের মধ্যে এ ফসল জনপ্রিয় করতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে আরও কৃষক সূর্যমুখি চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিপ্র/শাহোরা/