নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার। তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর সফলতার নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভার (সাবেক চক্রদা ইউনিয়ন) কুতুবের টেক গ্রামের মৃত আনোয়ার আালীর ছেলে।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৫ সালে, প্রয়াত নেতা আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার হাত ধরে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহ্বানে কৃষক আন্দোলনে অংশ নেন এবং ১৯৬৮ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারির সৈনিক। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি ন্যাপ (ভাসানী) এর নারায়ণগঞ্জ মহকুমা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ন্যাপ ভেঙে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি) গঠিত হলে তিনি ঢাকা জেলার আহ্বায়ক হন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গঠনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালে নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং শিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুদ্দিন আহমেদ এছহাকের মৃত্যুর পর এবং ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক অস্থির সময়ে, যখন দলের ভেতরে নেতৃত্বের সংকট দেখা দেয়, তখন তিনি দৃঢ় হাতে নরসিংদী জেলা বিএনপির হাল ধরেন। কঠিন সেই সময়ে তার নেতৃত্বে দল স্থিতিশীল অবস্থায় বজায় থাকে পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মনে জাগে আশার সঞ্চার।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। দলের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে একটি মহল তাকে হত্যার চেষ্টা করে, এমনকি তার বাড়িঘর ও গাড়িতে হামলা চালায়। কিন্তু তিনি ছিলেন অকুতভয়। কোন হুমকি, ভয়ভীতি বা ষড়যন্ত্রে পিছিয়ে যাননি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজপথের এক পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তিনি বহু আন্দোলনে অংশ নেন এবং ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি বহু প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষা ও নৈতিকতা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সম্ভব নয়।
নরসিংদী জেলার বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘আমি সবসময় বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পাশে ছিলাম। দলের কঠিন ক্লান্তিলগ্নে সব ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে দলের পক্ষে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব, যত ষড়যন্ত্রই আসুক আমি বিএনপির সঙ্গে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, কিন্তু থেকেছি বিএনপির সাথেই।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলা বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর সফলতার সাথে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। পাশাপাশি শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে গেছেন। তাকে নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
শিপ্র/শাহোরা/