শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

রায়পুরায় সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়ম; ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সড়কের সহায়ক প্রকল্পের আওতায় গাইড ওয়াল নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের হরিপুর থেকে গোপীনাথপুর পর্যন্ত সড়কের পাশে প্রতিরোধ দেয়াল (গাইড ওয়াল) নির্মাণে এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
নরসিংদী এলজিআরডি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের হাইরমারা মোড় থেকে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বারবার মাটি সরে গিয়ে সড়কের অংশ ভেঙে পড়ছিল। ফলে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যাহত হতো। এ সমস্যা সমাধানে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিআরডি বিভাগ।
এ লক্ষ্যে নরসিংদী এলজিআরডি বিভাগ দরপত্র আহ্বান করলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রায় ২ কিলোমিটার ৮১৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলেও শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রতিরোধ দেয়ালের নিচে ৩×১৫ ইঞ্চি পাথর, সিমেন্ট ও বালির মিশ্রণে আরসিসি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নকশা অনুযায়ী ১ মিটার উচ্চতার দেয়ালের নিচের অংশে আধা মিটার ১৫ ইঞ্চি এবং উপরের অংশে আধা মিটার ১০ ইঞ্চি ইটের দেয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও কিছু স্থানে মাত্র একটি ইটের ১৫ ইঞ্চি অংশ রেখে বাকি অংশ ১০ ইঞ্চি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অধিকাংশ স্থানে পুরো দেয়ালই ১০ ইঞ্চি ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি জায়গায় মাটি খুঁড়ে দেখলেও কোথাও আরসিসি ঢালাইয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া দেয়ালের বাইরের পাশে যে খুঁটিগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোতে পাথর ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেখানে ইটের কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম প্রথমে ফোনে বলেন, তার প্রতিষ্ঠান এ কাজটি করছে না; শিবপুরের কোনো একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।  প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর তিনি এই প্রতিবেদককে  ফোন দিয়ে রবিবার/ সোমবার উনাকে ফোন দিতে বলেন।  এ সময় প্রতিবেদক ফোন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রায়পুরায় আসছে আরে ভাই, আপনাদের তো কিছু খরচ আছে, সামনে আবার ঈদ।”
প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা এলজিআরডি প্রকৌশলী মাজেদুল ইসলাম সজিব ফোনে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান এর জন্য তার অফিসে যেতে বলেন।
তাকে ফোন করার পর পর প্রতিবেদকের তথ্য চাওয়ার বিষয়টি এই ঠিকাদারকে জানান।  এর ঠিক একমিনিট পর ঠিকাদার মাহবুবুল আলম প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার কারণ জানতে চান।
এ বিষয়ে অভিযোগটি এলজিআরডি নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশার নজরে আনা হলে তিনি তৎক্ষনাৎ একজন সহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠান। ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে পুনরায় কাজ করানো নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য চাইলে বলেন, তিনি তখন বক্তব্য দিতে অপারগতা স্বীকার করেন। তিনি বলে আগে আমি সঠিকভাবে কাজটি করানোর ব্যবস্থা করি এরপর এসে আমার বক্ত্য নিবেন।
শিপ্র/শাহোরা//


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!