শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

সুযোগ সন্ধানীদের রুখবে সাধ্য কার ?

Reporter Name / ২০৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

——————

ঘড়ির কাটায় দি আর-তারিখ বদলায়, কিন্তু মানুষ বদলায় সুযোগ বুঝে। ‘সুযোগ সন্ধানী’ বলে একটা কথা আছে। কথাটা শোভন নয়। ‘সুযোগ সন্ধানী’ বললেই বদলোকের চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অথচ আমাদের দেশে ‘সুযোগ সন্ধানী’ লোকের সংখ্যাই দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনীতিতে সুযোগ সন্ধানী লোকের সংখ্যাই বেশি। সাম্প্রতিক কালে রাজনীতির প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার শক্তিটা যেন কমে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের যে কোনো নির্বাচন রাজনীতির ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ করে। জাতীয় নির্বাচন মানেই উৎসব মুখর পরিবেশ। রাত জেগে মিছিল, সমাবেশ। পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করে আনার প্রাণান্তকর চেষ্টা। ভোটের মাঠে পছন্দের প্রার্থীর জন্য কথামালার লড়াই চলে। ভোট শেষ। আবার সকলে ‘ভাই ভাই’ মধুর সম্পর্ক। জাতীয় নির্বাচনের এটাই শক্তি ও সাহস। অথচ জাতীয় নির্বাচন এখন অনেকটাই ভীতিকর হয়ে উঠেছে। এর পেছনেও সুযোগ সন্ধানীদের ভূমিকা আছে। প্রতিপক্ষকে উস্কে দেওয়ার কাজটি মূলত তারাই করেছে।

‘সুযোগ সন্ধানীরা সব সময় সুবিদা ভোগ করেছে একেবারেই নতুন নয়। বিগত তিন বা চার দশক ধরে এদেশের রাজনীতিতে  ‘সুযোগ সন্ধানীর কদর দেখেছে মানুষ। তাই এখন আর এ দৃশ্য  দেখে বিচলিত হন না কেই আর। এমনতো নয় যে এই দৃশ্যের সাথে হয়তো তাদের নতুন পরিচয়। বরং বলা যেতে পারে এই কাহিনীর ব্যাপকতা হয়তো ধারাবাহিক নাটকের আকারে রুপ নিয়েছে । সমাজের কিছু মানুষ তো বরাবরই সরকারি দলে। যখন যে দল ক্ষমতায় তখন তারা সেই দলের । পাড়ার নেতা থেকে শুরু করে রাজনীতির বড় নেতা। ওই প্রকারের মানুষ নব্বই দশকের শেষ অবধি সমাজে গুটি কয়েক ছিলেন । সবাই তাদের চিনতেন । রাজনীতিতে ওই ব্যক্তিরা হাস্যরস বা বিনোদনের জোগান দিতেন। এখন সব মৌসুমে সরকারি দলে এমন নেতার সংখ্যা বেড়েছে ধরা যেতে পারে জনবিস্ফোরণের মতো। তাদের প্রবৃদ্ধি এতটাই হয়েছে যে, প্রকৃত রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সাহসী জনতার দুর্বার আন্দোলনে অভূতপূর্ব সাফল্যের ফলশ্রুতিতে দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগীরা দেশে পরিকল্পিত অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা নানান লুটতরাজ ও অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। ঠাত্র-জনতার এ অর্জন ধরে রাখতে হলে আমাদেরকে এসব সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত দুষ্কৃতিকারীদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনকে যাতে কেউ নিজ হাতে তুলে নিতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকবে হবে। দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তকে প্রতিহত করতে হবে।

সুযোগ সন্ধানীদের বিষয়ে বিএনপির ত্যাগী নেতারা এখন দিশেহারা ও উদ্বিগ্ন। রীতিমত এই সুযোগ সন্ধানীদের ভীড়ে দলের মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।  আবার অনেকে রাগে ক্ষোভে স্বেচ্ছা রাজনীতি থেকে নির্বাসন নিচ্ছেন। দলের গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী নেতা নিজেদের পকেট ভারী করতে এদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন। তাই তারাও সেই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে দলে অনুপ্রবেশ করছেন। আর এই সুযোগ সন্ধানী অনুপ্রবেশকারী নেতাদের রাজী খুশি করে নিজেদের অবস্থা পাকাপোক্ত করছে। শেখ হাসিনার পতনের সাথে তার দলের অনেক নেতাই রাতারাতি বোল পাল্টে বনে গেলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক।

খুব বেশীদিন আগের কথা নয় নরসিংদীর রাজপথে এমন অনেক ছেলেকে দেখা গেছে যাদের মুখে ছিল আমরা সবাই মুজিব সেনা, আর এখন তাদেরকেইে একই রাজপথে বলতে শুনা যাচ্ছে  “জিয়ার সৈনিক এক হও এক হও। সুযোগ সন্ধানী এই নেতারা সুযোগ নিয়েছে ভবিষ্যতেও নিবে। তাদের রুখবে কার সাধ্য?

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!