ঢাকা থেকে নরসিংদী বলতে মেঘালয় আর পিপিএল ছাড়া কোন পরিবহনের নাম আপনার মাথায় আসে? সরকারের বাস সার্ভিস বিআরটিসি নিয়ে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না! ট্রেণ সময় বাঁচালেও মানুষের ধাক্কাধাক্কির ভয়ে জ্যামে পড়ে, রোদে পুড়ে, সময় নষ্ট করে, অনেক কষ্ট করে বাসেই যাতায়াত করি! সেজন্যই ঢাকার মধ্যে মেঘালয় আর পিপিএল দেখলে মনে হয় নিজের গাড়ি!
মনোহরদী পরিবহন আমার রোডের নয়; তাই সেবা নিয়ে না জেনে বেহুদা কথা বলবো না! পিপিএল এর অবস্থা ভয়াবহ! আমার ভালো লাগেনি বলে পিপিএলে চলি না প্রায় তিন বছর। মেঘালয়ে আসা যাওয়াটা আমার জন্য সহজ; গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, কাকরাইল, ধানমন্ডি কেন্দ্রিক আমার কাজ বেশি হওয়ায় আমার কাছে এই স্ট্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে উঠা,নামা, থামা সবই বিপদজনক। যাত্রী হিসেবে একজন ব্যক্তি কয় কেজি মালামাল সাথে অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়া বহন করতে পারবে তার নির্ধারিত কোন নীতিমালা আমার চোখে পড়েনি! হাতে ১০ কেজি তুলা নিয়েও যদি আপনার হাত ভরা দেখে তাহলে তারা অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য গলায় ছুড়ি বসাবে! আপনার মালামাল আপনি নিজে মাথায় করে উঠালেও তাদের লেবার সিন্ডিকেটকে টাকা দিতে হবে! তারা সেটিং সার্ভিস বললেও বিগত ৪ বছরের চলায় আমি কোন দিন এই পরিবহনকে সেটিং সার্ভিস হিসেবে দেখিনি। সেটিং সার্ভিসের নামে চিটিং করা বাস কোম্পানির যদি কোন তালিকা করা হয় তাহলে ঐ তালিকায় মেঘালয় পরিবহনের নাম থাকবে সামনের সারিতে! আর এই লজ্জাজনক অব্যবস্থাপনার পরিসংখ্যান দিয়ে নরসিংদীর নামও সামনে চলে আসবে! এই নরসিংদীতে এই একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বিরুদ্ধে অনেক কথা উঠলেও তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। নারী, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধীদের জন্য এখানে আলাদা কোন সুবিধা নেই; তবে অসুবিধা আছে খুব যত্ন করেই! আমি অনেকবার চেয়েছি নরসিংদীর সড়কে মেঘালয়ের বদলে বা বিকল্প হিসেবে নতুন কোন পরিবহন আসুক! কিন্তু এত বড় সিন্ডিকেট ভেঙে কেউ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সরকারের পরিবহন বিআরটিসি এসি এই রোডে চললেও তাদের সেবা নিয়ে আমি কোন বিতর্কিত কথা বলতে চাচ্ছি না। সরকারি তো সরকারিই!
আমার দৃঢ ইচ্ছা আমি মেঘালয়কে বয়কট করবো কিন্তু নতুন কোন পরিবহন এই সড়কে না থাকায় আমারতো কিছুই করার নেই। কিন্তু কথা হলো সবাই মিলে আমরা যদি এক মাসের জন্য একটি ডাক দিয়ে মেঘালয় পরিবহন বয়কটের আহবান দেই, আমরা যদি একমাস সিলেটের পরিবহনগুলো দিয়ে, মনোহরদী বা কিশোরগঞ্জের পরিবহনগুলো দিয়ে ঢাকা যাই তাহলে কেমন হয়?
এতে সাময়িক কষ্ট হলেও জনগণের চাপে নতুন পরিবহন আসবে! আচ্ছা কেমন হয় এই সিন্ডিকেট ভেঙে জনগণই যদি নিজেদের সিন্ডিকেট তৈরি করে ফেলে? আপনারা চাইলে জেগে উঠা সম্ভব! আসুন আওয়াজ তুলি!
লেখক: মো.মাহবুব আলম
প্রতিষ্ঠাতা: উন্মোচন সাহিত্য পরিষদ-উসাপ