শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা ধর্ষণ ও হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল আসামি গ্রেফতার নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসায় রংপুর ডিসি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গণভোটের বৈধতাকে আদালতে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম রায়পুরায় ২০০ এতিমের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিল ‘অরফান লাভ’ রাজধানীতে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশিদের জন্য সৌদিতে দূতাবাসের জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি জাতীয় ভোটার দিবস; ভােটের অধিকার আর যেন খর্ব না হয় মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭ কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন আঘাত করেছে কিশোরী আমেনা হত্যা মামলা : ৭ আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা ধর্ষণ ও হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল আসামি গ্রেফতার

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইকোপার্কে পাহাড়ের চূড়ায় গলা কেটে দেওয়া সেই কন্যাশিশু অবশেষে তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ ) ভোররাতে কন্যাশিশুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ।

সাত বছর বয়সি জান্নাতুল নাইম ইরা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ত।

এদিকে তার মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত বাবু শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

সীতাকুণ্ড মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এরআগে দুপুরে তাকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্য পুলুপাড়া গ্রামের মৃত হাদেম শেখ এর ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন- গ্রেফতারকৃত বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ভিকটিমের বাবা মনির হোসেন এর সাঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ ছিল। তাদের সাথে প্রায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হত। বিরোধের জেরে তার মেয়েকে মেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

আসামি বাবু শেখ তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার সকালে শিশুটিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে। তারা প্রথমে কুমিরা থেকে বাস যোগে সীতাকুণ্ড বাস স্ট্যান্ডে নামে। পরবর্তীতে পায়ে হেঁটে সীতাকুণ্ড পাহাড় এলাকায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি ঘটনা মানুষকে বলে দিবে বলিয়া চিৎকার করে। সেই সময় অভিযুক্ত বাবু শেখ তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে শিশুটির আংশিক গলা কেটে মারা গেছে ভেবে ফেলে রেখে চলে আসে। পরে শিশুটি আস্তে আস্তে উপরে উঠে নির্মাণাধীন রাস্তা দিয়ে আসতে থাকলে কয়েকজন শ্রমিক তাকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত বাবু শেখের শনাক্ত মতে ঘটনাস্থল সীতাকুণ্ড পাহাড় থেকে ভিকটিমের রক্ত মাখা জামা, জুতা ও চকলেট আলামত উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি বাবু শেখকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস) সিরাজুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড সার্কেল (এএসপি) শাকিলা ইয়াছমিন সূচনা, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম, ডিবি ও থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সিসি ক্যামরায় যা দেখা গেল
রবিবার সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে ২৫ সেকেন্ডের ইকোপার্কের সিসি ক্যামরায় ভিডিওতে দেখা যায়, ৪৫ বছর বয়সি বাবু শেখ শিশুকন্যাটির হাত ধরে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে দেখছে সে। মেয়েটিও তার সঙ্গে দ্রুত হেঁটে পাহাড়ের দিকে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ এই সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। সিসি ক্যামেরা সংগ্রহের পর পুলিশ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করে বাবু শেখকে।

রবিবার রাতে শিশুটির মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।

রবিবার শিশুটির রক্তাক্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং শিশুটির সবশেষ অবস্থা নিয়ে মানুষ আগ্রহী হয়ে ওঠে।

মেয়ের মা রোকেয়া বলেন, আমরা ভাড়া বাসায় থাকি। আমাদের ভাড়া ঘরের পাশের ভাড়াটিয়া বাবু শেখ নামে এক লোক সব সময় আমাদেরকে হুমকি- ধামকি দিত। সেই সব সময় বলত আমার স্বামীকে না হলে আমার পরিবারের কাউকে সেই ক্ষতি করবে। আমরা তাকেই সন্দেহ করি। আমি আমার মেয়ের সঠিক বিচার চাই।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেয়েটির মা রোকেয়া বেগম বিভিন্ন সময় ঝগড়া-ঝামেলায় জড়িত। স্বামী-স্ত্রীর মাঝেও রয়েছে নানা বিরোধ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গলায় শ্বাসনালি কাটাসহ ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতে তার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুরু থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।

এর আগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইকোপার্ক সড়কের শ্রমিক ও স্থানীয় যুবক রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি জানিয়েছে, ইকোপার্ক এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ওপরে সড়কের (ব্লকের) কাজ করছিল তারা। এসময় স্ক্যাভেটর চালক মাটি কাটার সময় দেখতে পাই একটি মেয়ে (শিশু) গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় বাগান (জঙ্গল) থেকে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছিল। শিশুটিকে দেখতে পেয়ে চালক আমাদের ডেকেছে। পরে তার রক্তাক্ত গলা বেঁধে তাৎক্ষণিক আমাদের একটি ট্রাকে তুলে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে কে বা কারা তাকে গলা কেটেছে আমরা দেখিনি।

পরে তাকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি নির্জন পথ বলে জানা গেছে।

শিপ্র/শাহোরা/লিস/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!