শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় দিনটি উদযাপন করা হয়েছে মহান বিজয় দিবস। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি জানানো হয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধা। দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে স্মরণ করেছেন জাতির সূর্যসন্তানদের।
রংপুর : বিভাগীয় নগরী রংপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাধীনতা যুদ্ধে মহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করে। শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিভাগীয় প্রশাসন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীর নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল এবং পুলিশ সুপার শরীফ আহমেদের নেতৃত্বে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। এর পরপরই জেলার সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২৪ উদযাপন করেছে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-ইবিএইউবি। দিবসটি পালন উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। দিবসটি উপলক্ষে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার চৌধুরীর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আমজাদ হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ডিসি পার্ক এর দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মসূচি। তোপধ্বনি শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রথমে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান তাদের নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আজকের এই বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বৈষম্যমুক্ত চেতনায় ২০২৪ সালের এ গণঅভ্যুত্থান। সুতরাং বৈষম্য ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়া আজকের এ দিনে আমাদের প্রত্যাশা।
বরিশালে: বরিশালে শহীদ মুক্তিযাদ্ধা স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাজশাহী: রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. খোন্দকার আজিম আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আলমগীর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকাল ৯টায় সার্কিট হাউজ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের এ মেলায় বিপুল সংখ্যক দর্শণার্থীর সমাগম হয়।

এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী জেলা পরিষদের পক্ষ হতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) তরফদার মো: আক্তার জামীল। এসময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানসহ জেলা পরিষদের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। নগরীর ভুবন মোহন পার্কে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান সিটি প্রেসক্লাবের নেতারা।

খুলনা : খুলনার গল্লামারি স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা, খুলনা জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং কেসিসির কর্মকর্তারা।
খুলনায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো বিজয় দিবস। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সকাল ৯টায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একই স্থানে দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলা (চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের) আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদযোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বণির মধ্যদিয়ে দিবসের সুচনা হয়। স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। পরে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক - রাজনৈতিক সংগঠন সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানায়।
রংপুর: বিজয় দিবস উপলক্ষে রংপুরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও নতুন বিজয়ের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে লোকারণ্য হয়ে ওঠে রংপুরের শহীদ মিনার। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় বীর শহীদদের।

নরসিংদী : নরসিংদীতে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা জানান বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
সিলেট : বিজয় দিবসে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই শহীদ মিনারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা সংগঠন বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এদিকে, দুপুরে সিলেট নগরীর টিলাগড় থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের করে বাংলাদেশ সিটিজেন সলিডারিটি মুভমেন্ট ও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিটি।
গাজীপুর: গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে, শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্ত্বি, বিজয় Rallyসহ নানা কর্মসূচি পালন হয়।
জামালপুর : যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের দয়াময়ী এলাকায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগমের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হকের নেতৃত্বে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্মকর্তা মৌসুমি খানম, সির্ভিল সার্জন ডা. ফজলুল হক, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাত শহীদ পিংকী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, সচেতন নাগরিক কমিটিসহ (সনাক) বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এদিকে, বিজয় দিবস উপলক্ষে শহরের জিলা স্কুল মাঠে বিজয় মেলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে বীর মুক্তিযোদ্ধদের সংবর্ধনাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কুমিল্লা: শ্রদ্ধা আর বিনম্র ভালবাসায় নানা কর্মসূচিতে কুমিল্লায় উদযাপন হচ্ছে মহান বিজয় দিবস।
নাটোর: নাটোরে পুষ্পমাল্য অর্পন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও এক মিনিট নিরবতা শেষে দেশের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
সাতক্ষীরা : ৩১ বার তোপোধ্বনীতে দিবসটির সূচনা হয় সাতক্ষীরায়। শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ছাত্র প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন পুলিশপ্রশাসন, জেলা প্রেসক্লাব, বিএনপি, জামায়েতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে সরকারি বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ৩১ বার তোপধ্বনি ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়।
নোয়াখালী : নোয়াখালীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসের প্রথম প্রহরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে জেলা স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ ও পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক।এরপরেই সৃতিস্তম্ভ জেলার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ সময় জেলার মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলসহ সর্বসাধারণ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দিনভর আলোচনা সভা, বিজয় মেলা, শিশু কিশোরদের জন্য নানান প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহান বিজয় দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ এস এম শফিকুল্লাহ। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দফতর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সিয়াম আহমেদের নেতৃত্বে সমন্বয়করা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সাধারণ মানুষের সবার কণ্ঠে ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি অদম্য বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
নওগাঁ: হাজার বছরের গর্বিত বাঙালি জাতির বীরত্বের অবিস্মরণীয় দিন আজ। মহান বিজয় দিবস। প্রতি বছর বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় দিনটি পালন করে জাতি। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে নওগাঁয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের মুক্তির মোড়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আউয়াল। পরে একে একে পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধারা, সিভিল সার্জন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
যশোর: যথাযোগ্য মর্যাদায় যশোরে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। এবার যশোর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে মহান বিজয়স্তম্ভে এই তোপধ্বনির আয়োজন করা হয়। শুরুতে বিজয়স্তম্ভে বীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা। শ্রদ্ধা নিবেদনের একপর্যায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সালাম প্রদান করেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী যুব মৈত্রী, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, আনসার বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
মাগুরা: যথাযোগ্য মর্যাদায় মাগুরায় পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। সকালে নোমানী ময়দানে অবস্থিত শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনটি। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দিনটি উপলক্ষে শহরে জেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত আন্দোলন বিজয় মিছিল বের করে।
এ ছাড়া মাগুরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক সংগণ কণ্ঠবীথির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি অনুষ্ঠান। শহরের নোমানী ময়দানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে বিজয় মেলা।

রাঙামাটি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচিতে পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রশাসনের শ্রদ্ধা জানানো পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল ১১টায় শহরের জিমনেসিয়াম মাঠে তিন দিনব্যাপিী মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলা উদ্বোধন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ফেনী : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহর ভোর সাড়ে ৬টায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের জেল রোডে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফেনী জেলা বিএনপি, ফেনী প্রেসক্লাব, জেলা পরিষদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় মেলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শিপ্র/শাহোরা/