রাঙ্গাাটি প্রতিনিধি
বিভিন্ন আায়োজনে মধ্যদিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণ করে নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। পুরাতনকে বিদায় ও বর্ষবরণ উৎসবের ২য় দিনে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই উৎসব। পাহাড়ে জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে মারমা সম্প্রদায় একটি। বৈসাবি ঘিরে মারমা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাংগ্রাই। বর্ণিল আয়োজনে উৎসবে মাতোয়ারা মারমা সম্প্রদায়। উৎসবের মূল আর্কষণ জলকেলি বা পানি উৎসব দেখতে বেড়েছে পর্যটক সমাগম।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মারমা সমপ্রদায়ের এ উৎসব শুরু হয়। শোভাযাত্রা বের হওয়ার পর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
‘সকল দুঃখ গ্লানি মুছে যাক, সবখানে নবপ্রাণ ফিরে পাক’ এ স্লোগানে উদযাপিত হয় রি-আকাজা বা জল কেলি। এ সময় তরুণ-তরুণী, যুবক ও যুবতীরা উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে সামনের দিনগুলোতে অনাবিল সুখ আর শান্তি কামনা করেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া এক মারমা তরুণী বলেন,‘১সারা বছর আমরা সাংগ্রাই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করি। এটি আমাদের প্রধান উৎসব। জলকেলিতে অংশ নিয়েছি। বন্ধুরা মিলে খুব আনন্দ করেছি।’
এদিকে সাংগ্রাইসহ বৈসাবি উৎসব দেখতে খাগড়াছড়িতে ভিড় করেছে পর্যটকরা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব দেখে মুগ্ধ তারা। পর্যটক সুশিল কর্মকার বলেন, ‘পাহাড়ে এবার উৎসব দেখার জন্যই পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছি। আজকে মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবে অংশ নিয়েছি। অসাধারণ অনুভূতি। এতো কালারফুল আয়োজন।
মারমা ভাষার কবি চিংলামং চৌধুরী জানান, মারমা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস করে এই পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে অতীতের সকল দুঃখ-গ্লানি ও পাপ ধুয়ে-মুছে যাবে। সাংগ্রাই মারমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব, তবে এতে ধর্মীয় প্রথার মিশ্রণও রয়েছে।

শুধু পর্যটকরাই নয় খাগড়াছড়ি শহরের টিটিসি মোড় এলাকায় রিঃ লং পোয়েঃ আকাজা, পাইংজারা ও মঙংছুং প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসে যোগদেন পাড়াড়ি জনগোষ্ঠির ান্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার কে এম ওবায়দুল হক।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের টিটিসি মোড় এলাকায় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক উপভোগ করেছেন মারমা সম্প্রদায়ের রিঃ লং পোয়েঃ আকাজা, পাইংজারা ও মঙংছুং প্রদর্শনী অনুষ্ঠান।
সাংগ্রাই রিলং পোয়ে এর মাধ্যমে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে জল বা পানি ছিটিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেয় এবং নিজেরা পবিত্র হয় বলে বিশ্বাস করে এ জনগোষ্ঠীর লোকজন।
মারমা উন্নায়ন সংসদের আয়োজনে ৫ দিনের উৎসবের গতকাল চতুর্থ দিনে জলকেলি উৎসবে মেতেছিলো মারমারা। নিজেদের ঐতিবাহী পোষাক, ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হয়, জলকেলি উৎসব। মারমা ঐক্য পরিষদের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো সাংগ্রাই উৎসব।
সাংগ্রাই কেবল একটি উৎসব নয়। মারমা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আনন্দ ও নতুন বছরের সামাজিক সহাবস্থান দৃঢ় করে তোলে বলেন রিজিয়ন কমান্ডার কেএম ওবায়দুল হক
শিপ্র/শাহোরা/সামা?