আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে থাকার পর মারা গেছেন।বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিক কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রিক কোস্টগার্ড শুক্রবার গভীর রাতে জানায়, ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে।
ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে যে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুু হয়েছে, তাদের ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বলে উদ্ধার হওয়া একজন নিশ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তোবরুক বন্দর থেকে ইউরোপের উদ্দেশে ২১ মার্চ রওয়ানা হয় অভিবাসীবাহী একটি নৌকা। খবরে বলা হয়, গ্রিসের কোস্ট গার্ড ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, খাদ্য, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পানীয় জলের কারণে অভিবাসীদের মৃত্যু হয়েছে।
গ্রিসের কোস্ট গার্ড মুখপাত্র জানান, খাদ্যের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নিহতরা দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে রয়েছে দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও রাজানগরের জাহানপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)। জগন্নাথপুর উপজেলার নিহতরা হলেন চিলাউড়া গ্রামের সুহানুর রহমান জিয়া, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান ও ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ‘সমুদ্রপথে কয়েজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তথ্য যাচাই চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
গ্রিসের কোস্টগার্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। নৌকায় কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতদের স্বজনরা জানান, স্থানীয় এক পাচারকারী ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের গ্রিস নেওয়ার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নিয়ে যায়। তিন দিন আগে তাদের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ হয়েছিল। প্রিয়জনদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
শিপ্র/শাহোরা/