নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে সারা দেশে চালু হতে যাচ্ছে এবার ‘কৃষক কার্ড’। আনুমানিক ১২ লাখ কৃষককে উপকৃত করতে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সচিব নাসিমুল ঘনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে বিষয়টি ছিল। ঋণ মওকুফ সুবিধা ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন।
কৃষকরা কী কী সুবিধা পাবেন?
এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি পাবেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্বপন বলেন, কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে—সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষি ভর্তুকি ও সার-বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছায়।

কার্ডটি কাজ করবে কিভাবে?
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ডটিতে জমির আয়তন, ফসলের ধরন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ একটি ডিজিটাল প্রোফাইল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কার্ডটিতে যেসব বৈশিষ্ট্যগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে—
১. ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর।
২. ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা।
৩. কৃষিঋণ সহজ ও সুসংগঠিত করা।
৪. আবহাওয়া, উৎপাদন এবং বাজারের প্রবণতা সম্পর্কিত এসএমএসভিত্তিক আপডেট।
কৃষি স্মার্ট কার্ডের নিবন্ধন ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) মাধ্যমে অথবা চালুর পর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
নিবন্ধন করতে কী কী তথ্য লাগবে?
স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো-
১. এনআইডির একটি কপি।
২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩. রেজিস্ট্রেশন মোবাইল নাম্বার।
৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।
৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।
কৃষক কার্ড হাতে পাওয়ার ধাপসমূহ
সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :
১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।
২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।
৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।
৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।
৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।
প্রসঙ্গত, কৃষি স্মার্ট কার্ড নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ বলছে, কার্ডটি বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। কার্ডের জন্য কারো সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন করবেন না।
শিপ্র/শাহোরা/