রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
কার্তিকে হেমন্ত ঋতুর শুরু। বাংলার অষ্টম মাস কার্তিক মানেই প্রকৃতিতে নতুন সাজ। এমনই সাজে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মাঠ-ঘাট। মাঠে-মাঠে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। চারদিকে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যস্ততা, কৃষকের মুখে পরিশ্রমের তৃপ্তি আর ফসল তোলার আনন্দ।
লোকজ প্রবাদেও আছে— কার্তিক মাসে খাওয়া কম, পাকা ধানে ভরে খামার-গাম।” অর্থাৎ কার্তিক শুধু কৃষকের নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ প্রিয় সময়। দীঘিনালার পাহাড়-সমতলের সংযোগভূমি জুড়ে এখন এক অন্যরকম সৌন্দর্য। সকালে কুয়াশায় মোড়া মাঠ, দুপুরে সোনালি রোদে ঝলমলে ধান, আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে এক অনন্য প্রশান্তি।
ধীরে ধীরে শীতের আগমনও টের পাওয়া যাচ্ছে। এই মাসেই হেমন্ত এসে জানান দেয়—“ফসলের মৌসুম এসেছে, ঘরে তুলো সোনার ধান।”
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি উপজেলা দীঘিনালায় হালকা ঠান্ডা হাওয়ার সাথে সাথে সকালবেলায় ধানের ডগায় দেখা যায় বিন্দু বিন্দু শিশির যা বাতাসে দোল খেতে খেতে এক অপরূপ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে ক্ষেত গুলোতে ধানের শীষে সোনালি আভা। হেমন্তের বাতাসে সোনালী ধানের শীষে দেয় দোলা। কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে উঠে ধানা কাটা, মাড়াই , রোদে শুকাতে এবং গোলায় তোলার কাজে। এসময়ে কোথাও ধান মাড়াই, কোথাও নতুন ধান সিদ্ধ ও শুকানোর আয়োজন ব্যস্ত কৃষক কুল।
স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, সারা বছরের পরিশ্রমের ফল এখন ঘরে তোলার সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। ধানের দামও ভালো থাকলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।”
ধনুতি চাকমা নামে অপর কৃষক বলেন, এবার আমাদের পাড়ায় ধানের ফলন বেশ ভালো। সকালের কুয়াশা আর বিকেলের সোনালি রোদ—দুই মিলেই মাঠের দৃশ্যটা খুব সুন্দর লাগে। ধান কাটার আনন্দে আমরা সবাই মেতে উঠেছি।”
কার্তিক মাস তাই দীঘিনালার কৃষিজীবী মানুষের কাছে শুধু সময় নয়—এটি পরিশ্রম, ফসল ও আনন্দের উৎসবের মাস।
শিপ্র/শাহোরা/সাআমা/