শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
দু’জনে জানতেন, কাজটা সহজ হবে না। সামাজিক বাধা আসবে। আসবে কটাক্ষ, কটূক্তি। তবু তাঁরা একসাথে থাকার লড়াই থেকে সরেননি। শেষমেশ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এল সেই শুভদিন। ভয়, সঙ্কোচকে দূরে রেখে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন সুন্দরবনের দুই যুবতী।
‘অন্য ভালবাসার’ সাক্ষী থাকল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানা এলাকার রিয়া সর্দার এবং কুলতলি ব্লকের বকুলতলার বাসিন্দা রাখী নস্কর আবদ্ধ হলেন বিবাহবন্ধনে। স্থানীয় একটি ক্লাব কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মঙ্গলবার মন্দিরে বিয়ে করেন দুই তন্বী। তাঁরা বললেন, ‘‘জীবনের পথে চলতে গেলে ভালবাসাটাই আসল। কাকে ভালবাসছি, সেটা বড় কথা নয়।’’
ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারিয়েছেন রিয়া। বড় হয়েছেন মাসি-মেসোর কাছে। রাখীর শৈশব কেটেছে একান্নবর্তী পরিবারে। দু’জনেই পেশায় নৃত্যশিল্পী। তাঁদের পরিচয় হয়েছিল ফোনে। সেখান থেকে বন্ধুত্ব এবং প্রেমের পর দুই যুবতী সিদ্ধান্ত নেন একসাথে থাকবেন তাঁরা। দু’জনে জানতেন, কাজটা সহজ হবে না। সামাজিক বাধা আসবে। আসবে কটাক্ষ ও কটূক্তি। তবু তাঁরা একসাথে থাকার লড়াই থেকে সরেননি। শেষমেশ মঙ্গলবার এল সেই শুভদিন। ভয়, সঙ্কোচকে দূরে রেখে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন সুন্দরবনের দুই যুবতী।
রিয়া জানান, সম্পর্কের কথা তিনি বাড়িতে জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাখীর বাড়ি কেউ মেনে নেননি। তিনিও ঠিক করেন, যাঁকে ভালবাসেন, তাঁকে হারাতে দেবেন না। তাই বাড়ি ছেড়ে রিয়া তাঁর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। রিয়ার পরিবার অবশ্য তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে। প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করে দুই যুবতীর বিয়ের আয়োজন করে স্থানীয় এক মন্দিরে। মঙ্গলবার সাতপাকে ঘুরে, মালাবদল করে নতুন জীবন শুরু করলেন রিয়া ও রাখী।
বিয়ের পর রাখী বলেন, ‘‘আমাদের ২ বছরের সম্পর্ক। ফোনে পরিচয় হয়েছিল। অনেকেই বলেছিল মেয়েতে মেয়েতে আবার সম্পর্ক কী! কিন্তু আমরা ঠিক করেছি, একসাথেই থাকব। সারাজীবন থাকব।’’ , ‘‘ওর (রিয়ার) বাড়িতে সকলে মেনে নিয়েছেন। তবে আমার বাড়িতে কেউই সম্পর্কটা মেনে নেয়নি। বাবা বলেছে, থাকতে দেবে না। কী আর করা যাবে… ওর বাড়িতেই থাকব।’’
রিয়ার বলেন, ‘‘আমরা আমাদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েছি। ভালবাসাটাই তো বড় কথা। মহিলা পুরুষকে ভালবাসবে, পুরুষ মহিলাকে ভালবাসবে— কে বলে দিয়েছে? আমরা এ প্রথা থেকে বাহিরে বের হযে এসেছি’’
শিপ্র/শাহোরা/