শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক
আধিপত্য বিস্তার ও বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফরিদপুরের দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, সালথার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ও বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কিছু বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
যা বলছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিশালাকার ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সালথার খারদিয়া গ্রামের জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সঙ্গে বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের এ বিরোধ দীর্ঘ এক যুগের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জিহাদ মিয়ার বাবা আবুল কালাম আজাদের নামে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। ওই সময় মান্নান ও তার সমর্থকরা বাজারটি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং জিহাদ মিয়ার পরিবার এলাকাছাড়া হয়।

তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চিত্র বদলে যায়। জিহাদ মিয়া এলাকায় ফিরে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং মান্নান চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আব্দুল মান্নান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর মান্নান এলাকায় ফিরে এলে ফের উত্তেজনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উত্তেজনার জেরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে খারদিয়া, নটখোলা, ময়েনদিয়া ও পরমেশ্বর্দী এলাকার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ওই সময় অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর ও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহত অন্তত ৩০ জনের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর ও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: ইউএনবি
বৈঠকের উদ্যোগ প্রশাসনের
সালথা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার জানান, নির্বাচনের পর থেকেই এ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার সকালে সংঘর্ষ শুরু হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে সালথা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
সালথা-নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
‘এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।