খেলাধূলা ডেস্ক
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয় ভেঙেছে ভারত। ফুলের মতোই স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে শেফালি বর্মা দলের জয়ে সহায়ক ভুমিকা পালন করেন। প্রথমে ব্যাটিংয়ে, তারপর বোলিংয়ে। দুই অস্ত্রেই দেখালেন ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শেফালিকেও ছাড়িয়ে যান দীপ্তি শর্মা। দুজনের মনোমুগ্ধকর ক্রিকেট ভারতের নামের পাশে যুক্ত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ট্যাগ।
রবিবার (২ নভেম্বর) মুম্বাইয়ে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয় ভেঙেছে ভারত। ৫২ রানের জয়ে তারাই এখন নারী ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন।

শিরোপার লড়াইয়ে স্বাগতিকরা করেছিল ৭ উইকেটে ২৯৮ রান। শেফালির অবদান ছিল ৮৭ রান, দিপ্তীর ৫৮ রান। বল হাতে তারাই হয়ে উঠেন তুরুপের তাস। ইনিংসের মাঝপথে দুই ওভারে দুই আঘাতে শেফালি ছন্দপতন ঘটান প্রোটিয়া নারীদের। তারপরও লরা ভলভার্টের সেঞ্চুরিতে লড়াই চলছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য। প্রোটিয়াদের সেই আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেন দীপ্তি। ৫ উইকেটের কোটা পূর্ণ করে প্রতিপক্ষকে থামিয়ে দেয় ২৪৬ রানে।
নারী বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়েছেন ভলভার্ট। টুর্নামেন্টের এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৭১ রানের মালিক এখন প্রোটিয়া অধিনায়ক। পেছনে ফেলেছেন এলিসা হিলিকে। গত সংস্করণে (২০২২ সালে) ৫০৯ রান করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। এনেরি ডার্কসেনকে সঙ্গে নিয়ে দারুন এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ভলভার্ট। এই দুইজনকেই আউট করেন দীপ্তি। টানা দুই ওভারে তার ৩ উইকেট শিকারেই কার্যত ম্যাচ হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সবমিলিয়ে ৫ উইকেট শিকারে দীপ্তি খরচ করেন ৩৯ রান। শেফালি ২ উইকেটের বিনিময়ে দিয়েছেন ৩৬ রান।

ফাইনালে ভারতের শুরুটা ছিল দাপুটে। উদ্বোধনী জুটিতে স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি করেন ১০৪ রান। ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে একটি কীর্তি গড়েন স্মৃতি। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৪১০ রান করা ভারতীয় ক্রিকেটার এখন তিনি। এতদিন রেকর্ডটি ছিল মিতালি রাজের দখলে। শেফালি আউট হন দলীয় ১৬৬ রানে। এরপর জেমিমাহ রদ্রিগেজ (২৪) এবং হারমনপ্রীত কৌর (২০) মাঠ ছাড়েন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩৩১ রান রেকর্ড করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমনপ্রীত।
সবমিলিয়ে ঐতিহাসিক আরেকটি দিনে পূর্ণতা পেল ভারত নারী ক্রিকেট দল।
শিপ্র/শাহোরা/