চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে দ্রুতগতির এক মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। মুখোমুখি এ সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় বাসটি। আর ছিটকে সড়কের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা খেয়েছে মোটরসাইকেলটি। এ ঘটনায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন ।এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ফটিকছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের ফেলাগাজী দিঘি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- যোগেজ উড়াংয়ের ছেলে উত্তম উড়াং (১৭), রাম উড়াংয়ের ছেলে নয়ন উড়াং (১৭) এবং তপন উড়াংয়ের ছেলে তপু উড়াং (১৭)। তারা সবাই ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের বাসিন্দা।
ফটিকছড়ি হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. সাহাব উদ্দিন ও ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইব্রাহীম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শান্তি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বেপরোয়া গতিতে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। আর মোটরসাইকেলটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল। পথে ফেলাগাজী দিঘী মোড় এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোটরসাইকেলের এক আরোহী। এসময় বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে অন্তত ১৪ যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত উত্তম উড়াংয়ের পিতা যোগেজ উড়াং বলেন, উত্তম লেখাপড়া করতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করতো। আজ কাজ শেষে ছেলে বাড়ি ফিরলো লাশ হয়ে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। আহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত একজনের মরদেহ দুর্ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।
নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
শিপ্র/শাহোরা/