শিরোনাম :
গাজীপুরে মামলার হাজিরা দিতে আয়নাবাজি; যুবক গ্রেফতার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন পৌনে ৩ লাখে দাঁড়িয়েছে মাদকসেবনে বাধা; ইটভাটার ম্যানেজারকে কুপিয়ে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নরসিংদীর সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান সেলিম শিবপুরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন বাংলাদেশের যুবারা সফরকারী আর্জেন্টিনা দলকে রুখে দিল ছুটিতে দেশে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রাণ গেল প্রবাসীর, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০ বিএনপি নেতার প্রতিবাদের প্রতিবাদ গাজীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ১০ ৬ দফা দাবিতে ৯ম দিনে অধিদপ্তরের সামনে  স্বাস্থ্য সহকারীদের প্রতিবাদ
বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

‘এক লাখ টাকা দিলেই মিটে যাবে সব ঝামেলা’

Reporter Name / ৯৬ Time View
Update : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম প্রতিদিন ডেস্ক

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)-এর দুই পরিচালক শাহ আলম ও সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন মাধবপুর উপজেলার পাটলা ‘গণক সেচ’ প্রকল্পের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আব্দুল্লাহ।

লিখিত অভিযোগে ইমতিয়াজ উল্লেখ করেন, তার মিটার নং ২০১২০০৬৭৯৭ ও হিসাব নং ২৯১-৪০১০–এর বিপরীতে হঠাৎ করেই প্রায় দুই লাখ চার হাজার ৪০১ টাকা বকেয়া দেখানো হয়। এতে বিস্মিত হয়ে তিনি হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় ১২নং এলাকার পরিচালক ও সমিতির বর্তমান সভাপতি শাহ আলম এবং বানিয়াচং এলাকার পরিচালক সেলিম মিয়া তাকে হবিগঞ্জ পবিসের বাংলোতে ডেকে নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শাহ আলম ইমতিয়াজকে প্রস্তাব দেন—যদি এক লক্ষ টাকা দিতে পারো, তবে সব ঝামেলা মিটে যাবে।

ইমতিয়াজ জানান, বিষয়টি তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাউছার তালুকদারকেও অবহিত করেন। কিন্তু তিনিও দুই পরিচালকের পরামর্শ মতো চলতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি এক লাখ টাকা শাহ আলমের হাতে তুলে দেন।

পরবর্তীতে দুই পরিচালক নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সামনেও ঘটনাটির সত্যতা আংশিক স্বীকার করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগকারী ইমতিয়াজ আব্দুল্লাহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি ও পরিচালক শাহ আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে কে বা কারা অভিযোগ করেছে, আমি তা জানি না। যদি কেউ করে থাকে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে, পরিচালক সেলিম মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, শাহ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ গ্রহণ ও অনৈতিক লেনদেনের একাধিক অভিযোগ এসেছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিষয়গুলো সামলে নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, জিএমসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন পরিচালক শাহ আলম। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশা করছি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, ইমতিয়াজ আব্দুল্লাহর করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ফকির শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বারবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শিপ্র/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!